আজ : মঙ্গলবার ║ ৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : মঙ্গলবার ║ ৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ২১শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

চবিতে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে চিত্রকলা ও গ্রাফিতি প্রদর্শনী এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

দেশচিন্তা ডেস্ক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যােগে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী চিত্রকলা ও গ্রাফিতি প্রদর্শনী এবং শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় চবি জাদুঘর গ্যালারিত চিত্রকলা ও গ্রাফিতি প্রদর্শনী এবং ১১.৩০টায় চাকসু কেন্দ্রে আয়োজিত শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ও ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাসে আজকের দিনটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সংবেদনশীল দিন। আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ সুগম হয়েছিল। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস তুলে ধরতে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মতো উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর। শিশুরা তাদের কল্পনা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে যে চিত্র ফুটিয়ে তুলছে, তা প্রমাণ করে জুলাইয়ের চেতনা তাদের মনেও স্থান করে নিয়েছে।

উপাচার্য বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাগুলো আমাদের কখনো ভুলে গেলে চলবে না। সেই ভয়াবহ দিনগুলোতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জীবন দিয়ে গণতন্ত্র, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং নিরাপদ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিল। আজ আমরা যে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি, সেটি তাঁদের আত্মত্যাগেরই ফল।

উপাচার্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ফরহাদ ও শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়াসহ সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং বলেন, তাদের আত্মত্যাগ আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আজকের এই আয়োজনটি একটু ভিন্নধর্মী। আমাদের ছোট্ট শিক্ষার্থীরা চিত্রাঙ্কনের পাশাপাশি গ্রাফিতিও আঁকছে। তারা তাদের কল্পনা, অনুভূতি এবং দেশপ্রেমকে রঙ-তুলির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলছে। আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের সৃজনশীল চর্চা তাদের মধ্যে মুক্তচিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইতিহাসের শিক্ষা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ যেন আগামী প্রজন্ম কখনো ভুলে না যায়, সেই বার্তাও এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা ধারণ করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক চেতনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, সেই মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আজকের এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুরা ইতিহাসের সেই আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে ধারণা লাভ করবে। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

আয়োজকরা জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং তরুণদের শিল্পকর্মকে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনাভিত্তিক বৈচিত্র্যময় চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে।

চবি প্রক্টরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অনুষদসমূহের ডিনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক, চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক, জাদুঘরের পরিচালক, গ্রন্থাগারিক (ভারপ্রাপ্ত), সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগ/ইনস্টিটিউটের সভাপতি/পরিচালকবৃন্দ, প্রশাসকবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ, অফিস প্রধানগণ, কর্মকর্তাবৃন্দ, আমন্ত্রণ অতিথিবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

আজকের সর্বশেষ সংবাদ