
দেশচিন্তা ডেস্ক: প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে ‘কন্টিনিউয়াস কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট (সিকিউআই) অ্যান্ড অ্যাক্রেডিটেশন প্রসেস’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্রথম দিনের কার্যক্রম শনিবার (০১ আগস্ট ২০২৬) বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার। রিসোর্স পারসন ছিলেন ড. এস. এম. কবির, অধ্যাপক, ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সাবেক সদস্য। তিনি ‘ইউজিং ব্লুমস ট্যাক্সোনমি ইন প্রিপেয়ারিং সিএলওস, কোয়েশ্চন পেপারস অ্যান্ড মডারেশন’ বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কন্টিনিউয়াস কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট (সিকিউআই) ও অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষা, ফলাফলভিত্তিক পাঠদান এবং কার্যকর মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের প্রশিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক প্রশাসনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করবে।
রিসোর্স পারসন ড. এস. এম. কবির তাঁর বক্তব্যে বলেন, আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ওবিই) বাস্তবায়নের অন্যতম ভিত্তি হলো সঠিকভাবে কোর্স লার্নিং আউটকামস (সিএলওস) প্রণয়ন এবং সেই সিএলও-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাদান ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ব্লুমস ট্যাক্সোনমি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ, বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও সৃজনশীলতার বিভিন্ন স্তর যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে কার্যকর মডারেশন প্রক্রিয়া মূল্যায়নের স্বচ্ছতা, নির্ভরযোগ্যতা ও মান নিশ্চিত করে। ধারাবাহিক মানোন্নয়ন (সিকিউআই) কোনো এককালীন কার্যক্রম নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে মূল্যায়নের ফলাফল বিশ্লেষণ করে নিয়মিত উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের জন্য প্রতিটি বিভাগকে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক ডকুমেন্টেশন, নিয়মিত মূল্যায়ন, স্টেকহোল্ডারদের মতামত এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষকরা যদি ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা দর্শনকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান আরও সমৃদ্ধ হবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।
কর্মশালায় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির প্রতিটি একাডেমিক বিভাগের প্রোগ্রাম সেল্ফ অ্যাসেসমেন্ট কমিটির (পিএসএসি) সদস্যবৃন্দ এবং বিভাগসমূহের নির্ধারিত শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, আইকিউএসি-প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির অতিরিক্ত পরিচালক (কিউএ) জনাব তানজিনা আলম চৌধুরী এবং অতিরিক্ত পরিচালক (ইটিএল) জনাব গাজী শাহাদাৎ হোসেন।
দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই), ব্লুমস ট্যাক্সোনমি, কোর্স লার্নিং আউটকামস (সিএলওস), প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মডারেশন এবং ধারাবাহিক গুণগত মানোন্নয়ন (সিকিউআই) বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষ ও অ্যাক্রেডিটেশন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।


















