
দেশচিন্তা ডেস্ক: সমাজ ভাবনামূলক সংস্থা আহিয়ার্ক ও সামাজিক সংগঠন জুঁইফুল’র যৌথ আয়োজনে ‘ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম জাগরণে সদরুল আফাজিল নঈমুদ্দিন মুরাদাবাদী (রহ.)’র নেতৃত্বের বিশ্লেষণ ও ইলমি খিদমত’ শীর্ষক সেমিনার ১ আগস্ট শনিবার নগরীর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবস্থ এস. রহমান হলে অনুষ্ঠিত হয়। কাজী আসিফ আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আতের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আল্লামা কাজী মঈনুদ্দিন আশরাফী। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক-সংগঠক জুঁই ফুলের প্রতিষ্ঠাতা জিএম মামুন। প্রধান অতিথি আল্লামা কাজী মঈনুদ্দিন আশরাফী বলেন, সদরুল আফাজিল আল্লামা নঈমুদ্দিন মুরাদাবাদী (রহ.) একজন যুগশ্রেষ্ঠ তাত্ত্বিক লেখক ও বিদগ্ধ মনীষী। উপমহাদেশে মুসলিম জাগরণে লেখনীর মাধ্যমে তিনি অসামান্য অবদান রাখেন। তাঁর নেতৃত্বগুণ, প্রজ্ঞা, প্রতিভা ও ইলমি খেদমত দেখে অভিভূত হতে হয়। আল্লামা মুরাদাবাদীর (রহ.) দ্বীনি বিষয়ে মৌলিক চিন্তাধারা ও গভীর পান্ডিত্যের কথা বর্তমান প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরা জরুরি। আল্লামা আশরাফী আরও বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম জাগরণে অনেক শীর্ষস্থানীয় আলেম ও সুন্নী ব্যক্তিত্বের প্রাগ্রসর অবদান রয়েছে। তা বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানে না। অনেক ইতিহাস লেখকও লেখনীর ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতা ও নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি রক্ষা করতে না পারায় সঠিক ইতিহাস জানা দুরূহ হয়ে উঠেছে। তিনি গবেষক ও লেখকদেরকে ইতিহাস রচনায় বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা এবং নিরপেক্ষ থাকার তাগিদ দেন। মূল প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক জিএম মামুন বলেন, আল্লামা নঈমুদ্দিন মুরাদাবাদীর (রহ.) তাত্ত্বিক ক্ষুরধার বস্তুনিষ্ঠ লেখনীতে সত্যানুসন্ধিৎসু মানুষ সঠিক ঈমান-আক্বিদার দিশা পাচ্ছে। তাঁর লেখনী প্রতিভা ও ইলমি খেদমতের সুফল পাচ্ছেন সর্বস্তরের হকপন্থি মানুষ। দ্বীন ও সুন্নিয়তের খেদমতে আজীবন উৎসর্গীত ছিলেন তিনি। সভাপতির বক্তব্যে কাজী আসিফ আশরাফী বলেন, একপেশে ইতিহাসচর্চার কারণে আল্লামা নঈমুদ্দিন মুরাদাবাদীর (রহ.) মতো মূলধারার ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও গবেষকরা অনেকটা উপেক্ষা ও অবজ্ঞার শিকার। অথচ শরিয়ত-তরিকত তাসাউফ ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রসহ দ্বীন ইসলামের মৌলিক সকল বিষয়ে আল্লামা মুরাদাবাদীর (রহ.) প্রচুর ইলমি খিদমতের স্বাক্ষর রয়েছে। যা আজ জনসমক্ষে উন্মোচিত করা দরকার। মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম ইরফানের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আদনান তাহসিন আলমদার। সেমিনারে পঠিত প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন অধ্যক্ষ মাওলানা মারেফাতুন নুর, মুহাদ্দিস মাওলানা মুহাম্মদ আশেকুর রহমান, শেখ মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, গাজী মুহাম্মদ মুঈনুদ্দীন রেজভী, মুহাম্মদ রাসেল, এইচ.এম. ফরিদুল আলম আশরাফী।














