
দেশচিন্তা ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সীতাকুণ্ড উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ আয়োজিত নারী সমাবেশ, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য শামছুন্নাহার বেগম এমপি বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের ঐক্য ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে তা হবে শহীদদের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।
তিনি বলেন, “আমরা কেউ জুলাই গাদ্দার হতে চাই না, আমরা শহীদ ওসমান হাদীর মতো করে বলতে চাই- “জান দেব কিন্তু জুলাই দেব না।”
আজ ২৯ জুলাই, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সীতাকুণ্ড উপজেলা মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি মুহতারামা আমেনা বেগমের সভাপতিত্বে, কাতার টাওয়ারে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সংসদ সদস্য বলেন, ২০২৪ সালের এই দিন পর্যন্ত শহীদের সংখ্যা প্রায় কয়েকশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং কারফিউ, ইন্টারনেট শাটডাউনসহ চরম অরাজকতার মধ্য দিয়ে দেশ পার হয়েছিল। তিনি সে সময়ের ভয়াবহতা স্মরণ করে বলেন, একজন ঠাণ্ডা মাথার খুনি একের পর এক তরুণ প্রাণ কেড়ে নিলেও শেষ পর্যন্ত আল্লাহই তাকে থামিয়েছেন।
বক্তব্যে তিনি ইতিহাস বিকৃতি ও জুলাইকে খাটো করে দেখানোর প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠা তাণ্ডবকে যারা কখনো ভয়ংকর বলে স্বীকার করে না, তারাই আজ জুলাইকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এ আন্দোলনে মানুষ জাত-ধর্ম-বর্ণ না দেখেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, এবং সে ঐক্য অক্ষুণ্ণ রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর পাশে থাকা, নিয়মিত তাদের খোঁজখবর রাখা এবং প্রতি ওয়াক্ত নামাজে শহীদদের মাগফেরাতের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা মাঠে নেমে আন্দোলন করতে পারেননি, তাদের জন্য এই দায়িত্ব পালন করা অবশ্যকর্তব্য। এছাড়া আন্দোলনে নিপীড়নের শিকার হওয়া নারীদের ত্যাগ ও ঈমানি দৃঢ়তার প্রশংসা করেন তিনি।
তিনি উপস্থিত সবাইকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে আত্মশুদ্ধি ও দেশপ্রেমের চেতনায় দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান, যাতে আগামী প্রজন্মকে আর কখনো স্বৈরশাসনের মুখোমুখি হতে না হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের লেকচারার আকরমা খানম, লুতফুর নাহার, সহকারী সেক্রেটারি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ও জয়নাব বেগম।
দোয়া পরিচালনা করেন নুর নাহার, সহকারী সেক্রেটারি, সীতাকুণ্ড উপজেলা মহিলা বিভাগ।













