আজ : রবিবার ║ ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : রবিবার ║ ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║১৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ১৩ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বাংলাদেশে গ্যাস সংকট ও জ্বালানি নিরাপত্তা

সোমা ঘোষ মণিকা —

(বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস অর্থনীতি ও জনজীবনের মূল চালিকাশক্তি। বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ৪৬%, শিল্পে ১৮% এবং সার উৎপাদনে ৫% জ্বালানি সরবরাহ করে। দৈনিক চাহিদা ৩,৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, উৎপাদন মাত্র ২,৩০৬ মিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাস সংকট মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ব্যাঘাত ও বৈদেশিক বিনিয়োগে প্রভাব ফেলে, তাই বিকল্প জ্বালানি ও নীতি প্রয়োজন।)

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে প্রাকৃতিক গ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প, সার খাত এবং গৃহস্থালি ব্যবহার প্রায় সব ক্ষেত্রেই গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু উৎপাদন ও চাহিদার বৈষম্য, গ্যাস সংকট এবং সরবরাহ অভাবে দেশে মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ব্যাঘাত ও বৈদেশিক বিনিয়োগে প্রভাব পড়ছে। বিকল্প জ্বালানি ও নীতি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে এলপিজি গ্যাস কি?
এলপিজি (LPG) বা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস হলো প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণে তৈরি একটি চাপযুক্ত তরল জ্বালানি যা সাধারণ তাপমাত্রায় সহজে সিলিন্ডারে রাখা যায়। রান্না, গৃহস্থালি ব্যবহারের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শিল্পে তাপ উৎপাদনে এটি অত্যন্ত ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি। বিশেষ করে যেসব এলাকায় সরাসরি পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস পৌঁছায় না সেখানে এলপিজি হলো প্রধান রান্নার জ্বালানি। বিশ্ব এলপিজি বাজার ২০২৪ সালে প্রায় ১৫২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং ২০৩২ পর্যন্ত গড়ে ৭.৩৩% হারে বৃদ্ধির প্রত্যাশা রয়েছে।

বাংলাদেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৫৫ সালে হরিপুর, সিলেট অঞ্চলে, যেখানে বুরমা অয়েল কোম্পানি এটি আবিষ্কার করেছিল। ১৯৬০ সালে ছাতক গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন শুরু হয়। এরপর ১৯৬২ সালে তিতাস, কাইলাশটিলা ও হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন বড় গ্যাসক্ষেত্র গুলো আবিষ্কৃত হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩০টি গ্যাসক্ষেত্র আছে, যার মধ্যে ২০টি সক্রিয়ভাবে উৎপাদন করছে। প্রখ্যাত ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে তিতাস, হবিগঞ্জ, বিবিয়ানা (Bibiyana), জলালাবাদ ইত্যাদি।
দেশের মোট প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ আনুমানিক ২৮-৩০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (TCF) এবং এর একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই ব্যবহার হয়েছে; বর্তমান কিছু হিসাব মতে প্রায় ২০ TCF ব্যবহৃত এবং প্রায় ৮-১০ TCF রিজার্ভ হিসেবে অবশিষ্ট আছে।

প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের প্রধান জ্বালানি উৎস, যা প্রায় ৭৫% পর্যন্ত জ্বালানি চাহিদা পূরণ করে। কিন্তু উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান দিনদিন বাড়ছে ২০২৩ সালের ডেটা অনুযায়ী গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ছিল প্রায় ৩৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, আর উৎপাদন মাত্র প্রায় ২৩০৬ মিলিয়ন ঘনফুট ছিল।

রিসার্চ থেকে জানা যায়, গ্যাস উৎপাদনের টেকসই পর্যায় পার হওয়ার ফলে বাংলাদেশ ২০১৮ সালে LNG (লিকুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস) আমদানি শুরু করেছে যাতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ঘাটতি পূরণ করা যায়।

প্রাকৃতিক গ্যাস সংকট হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রভাব এই বিষয়টি এখন খতিয়ে না দেখলেই নয়।
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস প্রথম আবিষ্কার থেকে শুরু করে দেশের অর্থনীতি ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এটি একটি অপরিহার্য চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বর্তমান সময়ে দেশের মোট প্রাথমিক জ্বালানি ভোগে প্রাকৃতিক গ্যাস প্রায় ৪৬% ভাগ দখল করে রেখেছে, যেখানে তেল ও জীবাশ্ম জ্বালানি ও জীবাশ্ম জ্বালানি ও বায়োমাস প্রতিটিই ২২% ভাগ দখল করে। এ তথ্য থেকে স্পষ্ট যে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় গ্যাসের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

বর্তমান জ্বালানি ব্যবস্থায় প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ সরবরাহ করে থাকে এবং ২০২৫ সালে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৬৬ বিলিয়ন kWh ছাড়িয়ে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

তবে গ্যাস সংকটের কারণে দেশের ৫০% এরও বেশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না । উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা যায় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর মোট ইনস্টলড ক্ষমতা ১২,৩৩৩ মেগাওয়াট, কিন্তু শুধুমাত্র ৫,০০০ মেগাওয়াট (প্রায় ৪০%) সক্ষমতায় সরবরাহ হতে পারছে গ্যাস সংকটের কারণে। এর ফলে লোডশেডিং বাড়ছে, বিদ্যুৎ অভাবে শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগকেও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।

প্রাকৃতিক গ্যাস শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনেই ব্যবহৃত হয় না; এটি শিল্প খাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক গবেষণা অনুযায়ী, প্রকৃত গ্যাস ব্যবহার ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ৭৪৭.৭৬ বিলিয়ন কিউবিক ফুট (BCF) ছিল, যেখানে সর্বোচ্চ অংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে (~৪৩%), তার পর শিল্প খাতে (~১৮%), এবং ফার্টিলাইজার উৎপাদনে (~৫%) ব্যবহার হয়েছে।

গ্যাস সংকটে বাংলাদেশের প্রভাব:

সরবরাহ কমে যাওয়ার ফলে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্ষমতা কমে যাবে, উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং পণ্য উৎপাদনে সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে সার শিল্পে গ্যাসের অভাবে ইউরিয়া উৎপাদন কমে গেলে কৃষি খাতে সার সংকট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, যা খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করবে।

গ্যাস সংকটে গৃহস্থালির রান্না ও দৈনন্দিন কাজে সরাসরি প্রভাব পড়ে। বর্তমানে বাংলাদেশে গ্যাসগ্রাহক সংখ্যা লক্ষাধিক, এবং গ্যাস না থাকলে মানুষের পরিবারগুলোকে এলপিজি বা অন্যান্য বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে হবে, যার ফলে গৃহস্থালির ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
এছাড়া সংকটে গৃহস্থালির মানুষ কাঠ বা কয়লার মতো বেশি দূষণকারী জ্বালানিতে নির্ভর করতে পারে, যার ফলে বায়ুদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।

কিন্তু বর্তমানে গ্যাস সংকটে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা ডিজেল জেনারেটার বা আমদানিকৃত এলএনজি-তে নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন, যার খরচ স্থানীয় গ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি। সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে পেট্রোবাংলা শুধু ৭ মাসে আমদানি ও জ্বালানি ক্রয়ের মাধ্যমে প্রায় ৩.২৭ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, যার ৮২% ছিল এলএনজি আমদানি খরচ। এতে স্পষ্ট বোঝা যায় আমদানি নির্ভরতা বাড়লে বাজেটে চাপ সৃষ্টি হয়।

উৎপাদন ব্যয় বাড়লে পণ্যের দামও বাড়ে, যা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি করে। তা ছাড়া গ্যাস সংকট দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকে কম আকৃষ্ট করে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত করে।

বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে পোশাক ও খুচরা তৈরি শিল্প, গ্যাস ও বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে এই শিল্পের উৎপাদন কমতে পারে, ফলে রপ্তানি আয় কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ দুর্বল হতে পারে। রেমিট্যান্স আয়ও প্রভাবিত হতে পারে যদি কর্মসংস্থান কমে যায়।

গ্যাস সংকটে মানুষ যদি বেশি দূষণকারী বিকল্প জ্বালানিতে ফিরে যায় তাহলে বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পাবে এবং স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব পড়বে। বায়ুদূষণ ও কর্মক্ষমতা কমে গেলে স্বাস্থ্যব্যয় বাড়বে এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর উৎপাদনশীলতা কমে যাবে।

প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি শুধু জ্বালানি সমস্যা নয় বরং এটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন-শক্তি, শিল্প উৎপাদন, সার খাত, বাজেট ও মূল্যস্ফীতি, রপ্তানি আয় এবং জনস্বাস্থ্য এসব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলে। গ্যাসের ওপর এত অননুযায়ী নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে বাংলাদেশকে দ্রুত জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্যকরণ, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরতাকে কমাতে বিভিন্ন বিকল্প জ্বালানি উৎসের ব্যবহার জরুরি। বর্তমান দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্র প্রায় ৪ -৫%-ই নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে, যেখানে গ্রিড-সংযুক্ত রিনিউএবল ক্ষমতা প্রায় ১,৫৩০ MW রয়েছে-যা মোট ২৮,০০০ MW এর তুলনায় খুব কম অংশ। সৌর শক্তি এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ নিয়ে রয়েছে তা নিচে তুলে ধরা হল। যেমনঃ

সৌর শক্তি (Solar Power) :

সৌর শক্তি বাংলাদেশে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বিকল্প, যেখানে গ্রিড-সংযুক্ত ও অফ-গ্রিড মিলিয়ে ১,২৮৬ MW ক্ষমতার সৌর প্রকল্প ইতিমধ্যে স্থাপন হয়েছে। এই উৎসটি দেশে উচ্চ সৌর-ইনসোলেশন (গড়ে ৪-৫ kWh/m²/দিন) থাকার ফলে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে পারে।

বায়ু শক্তি (Wind Power):

বর্তমানে দেশে বায়ু শক্তি খুবই সীমিত যা শুধুমাত্র ৬২.৯ MW স্থাপিত আছে, যা মোট নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে মাত্র ছোট অংশ প্রতিনিধিত্ব করে। উপকূলীয় এলাকাসহ বঙ্গোপসাগরের অফশোর অঞ্চলে উচ্চ বায়ু সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবায়ন এখনও অপ্রতুল।

জিওথার্মাল ও বায়োগ্যাস:

বায়োগ্যাস ও জীবাশ্ম-উৎপন্ন গ্যাসের সক্ষমতা খুবই কম; উদাহরণস্বরূপ বায়োগ্যাস-থেকে বিদ্যুৎ মাত্র 0.69 MW ক্ষমতা উৎপন্ন হচ্ছে, যা মোটে নগণ্য। তবে গ্রামীণ অঞ্চলে ছোট-খাটো ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে গ্যাসের ওপর চাপ কমানো সম্ভব।

হাইড্রো পাওয়ার (Hydropower):
বাংলাদেশে বড়-খনি হাইড্রো প্রকল্পে সীমাবদ্ধতা থাকলেও ছোট-মাঝারি জলবিদ্যুৎ মাধ্যমিক উৎস হিসেবে ২৩০ MW ক্ষমতা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

জ্বালানি স্যুইচিং: এলএনজি ও আমদানি:

স্বল্পমেয়াদে গ্যাস ঘাটতি কমাতে এলএনজি আমদানি একটি বাস্তব বিকল্প। তবে এটি বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যয় বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সমাধান নয়।কারণ এটি দেশকে আমদানির ওপর আরও বেশি নির্ভর করে তুলতে পারে।
বর্তমানে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০% renewable থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য স্থির করেছে, যা আগামী দশকে রিনিউএবল খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি উন্নয়ন বাড়ালে সফল হতে পারে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসঘাটতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতিতে নীতিগত অস্থিরতা এবং LNG-এর ওপর নির্ভরতা দেশীয় জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে ফেলেছে বলে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ নির্দেশ দিয়েছেন।

এতে সরকারের ভূমিকা আলোচ্য বিষয়:

• গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান: ভোলায় আগামী বছরে মোট ১৯টি নতুন গ্যাস কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো যায়।

• বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ: নতুন জ্বালানি নীতিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে শক্তি অবকাঠামো সম্প্রসারণে বৈদেশিক পুঁজির প্রবাহ বাড়ে।

• নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভর্তুকি: সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ২০% নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রেখে নীতি প্রণয়ন করেছে, যা জ্বালানি বৈচিত্র্যকরণে সাহায্য করবে।

• গ্যাস অপচয় রোধ: নীতি পর্যায়ে দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও লিকেজ-রোধ ও জ্বালানি অপচয় কমাতে প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

জনগণের ভূমিকা কি কি এই ক্ষেত্রে‌ তা নিচে তুলে ধরা হল।

• সাশ্রয়ী ব্যবহার: গৃহস্থালি ও শিল্পে গ্যাস সাশ্রয়মূলক ব্যবহার অপরিহার্য।

• শক্তি-দক্ষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার: উচ্চ দক্ষতার যন্ত্রপাতি ও নিরীক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহারে জ্বালানি খরচ কমে যায়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ১-১.৫% পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে প্রাকৃতিক গ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৪৬%, শিল্প খাতের প্রায় ১৮%, এবং সার উৎপাদনের প্রায় ৫% জ্বালানি সরবরাহ করে। দেশের মোট প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ আনুমানিক ২৮-৩০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (TCF), যার প্রায় ২০ TCF ইতিমধ্যেই ব্যবহার হয়েছে। দৈনিক গ্যাস চাহিদা প্রায় ৩,৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, কিন্তু উৎপাদন মাত্র ২,৩০৬ মিলিয়ন ঘনফুট, যা সরবরাহ-চাহিদার বৈষম্য স্পষ্ট করে। গ্যাস সংকট বিদ্যুৎ উৎপাদনে মাত্র ৪০% সক্ষমতা ও শিল্প ও সার খাতে উৎপাদন ব্যাহত করছে, যা মূল্যস্ফীতি ও রপ্তানি আয় হ্রাসে প্রভাব ফেলছে।

বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর শক্তি (১,২৮৬ MW), বায়ু শক্তি (৬২.৯ MW), বায়োগ্যাস (০.৬৯ MW) এবং হাইড্রো পাওয়ার (২৩০ MW) এখনও মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্র ৪-৫% মিটিয়ে থাকে। সরকার গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি, নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ এবং গ্যাস অপচয় রোধের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করছে। জনগণ সাশ্রয়ী ব্যবহার ও শক্তি দক্ষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১-১.৫% পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তাই বৈচিত্র্যকরণ, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং পরিকল্পিত নীতি গ্রহণই দেশের স্থায়ী জ্বালানি নিরাপত্তার চাবিকাঠি।
লেখক ও গবেষক

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ