আজ : বুধবার ║ ১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : বুধবার ║ ১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ২৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

রাউজান থানা পুলিশের অভিযানে ৯ গ্রেফতারসহ লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার

গত ১৭ মার্চ মঙ্গলবার রাত আনুমানিক দেড়টায় চট্টগ্রামের রাউজান থানা এলাকায় একটি ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের অভিযানে আন্ত:জেলা ডাকাতদলের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন গতকাল ১৮ মার্চ বুধবার দুপুরে নগরীর ষোলশহরস্থ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিং করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তিনি বলেন, ১৪/১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল পাহাড়তলী ইউনিয়নের দেওয়ানপুর বদুপাড়া এলাকায় হাজী ইউসুফ এর দুতলা বাড়িতে সিঁড়ি ঘরের উপরে ফাঁকা জায়গা দিয়ে প্রবেশ করে এবং দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে বাড়ির সদস্যদের জিম্মি করে একটি কক্ষে আটকে রেখে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, এমিটেশন গহনা ও মোবাইল ফোনসহ পরিমাণ মালামাল লুণ্ঠন করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির পর চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একাধিক টিম গঠন করে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তি ব্যবহার, ঘটনাস্থল বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যেই আসামীদের শনাক্ত এবং পাহাড়তলী ও বাগোয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান করে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযান চলাকালে গ্রেফতারকৃত আসামীদের হেফাজত হতে ১টি রকেটসহ চেইন, ১ জোড়া কানের দুল, ১৩টি হাতের চুড়ি, ৩টি ব্রেসলেট, ১টি হাতঘড়ি, নগদ ৪,৯৮৪ টাকা, ১ টি রেডমি মোবাইল ফোন এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ১টি স্ক্রু ড্রাইভার, ১টি প্লাস, ১টি রেঞ্জসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাউজান থানায় মামলা নং-১২, তারিখ ১৭/০৩/২০২৬, ধারা ৩৯৫/৩৯৭/৪১২ পেনাল কোডে মামলা রুজু করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা পেশাদার ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ফজর আলী @ বাটন @ ডিপজল ডাকাত চট্টগ্রামের বিভিন্ন অপরাধীদের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন এবং অন্যান্য আসামীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।ঘটনার দিন সকাল বেলা আসামীরা বাস ও ট্রেনে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। সন্ধ্যার সময় আলাদা আলাদা হয়ে রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থান নেয়। পাহাড়তলী বাজারে চা-নাস্তা খেয়ে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের আশেপাশের ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। রাত ১টার দিকে ফজর আলী অন্যান্য আসামীদের নিয়ে জনৈক আহমদ হোসেন বাবুল এর বাড়ি ইউসুফ মঞ্জিলের কাছে পৌঁছায়। তিনজনকে বাহিরে পাহাড়ায় রেখে অন্যরা সিঁড়ি ঘরের উপরে ফাঁকা জায়গা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। খুব কম সময়ে মোবাইল, স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা লুট করে বের হয়ে আসে। পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের তৎপরতায় ভোরের আগেই ৯ জনকে বিভিন্ন জায়গা থেকে আলামতসহ গ্রেফতার করা হয়।পুলিশের দ্রুততা, পেশাদারিত্ব ও সমন্বিত অভিযানের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রটি আইনের আওতায় এসেছে এবং এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।পলাতক অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামীরা হলেন হবিরগঞ্জ জেলার কবির হোসেন প্রকাশ আমির (৪৬) , হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলার চান্দগাও এলাকার অশিক (৪২), হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর এলাকার বুদু মিয়া (২২), সিলেট জেলার দক্ষিন সুরমা এলাকার আলী আহম্মদ মনুমিয়া (২৩), ভ্রাম্বন বাড়িয়া জেলার বিজয় নগর এলাকার আবুল হোসেন (৩২), হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর এলাকার আবুল কালাম (২২), মোঃ মিটু (২৮), সিলেট জেলার গোপাল গঞ্জ এলাকার মনোয়ারুজ্জমান ইমন ওরফে শাকিল (২৭), হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর এলাকার মোঃ মামুন মিয়া (৩০) ।
ডাকাতির ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া ডাকাত দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে, হবিগঞ্জ জেলার চুনার ঘাট এলাকার বাসিন্দ্বা বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড এলকায় বসবাসকারী ফজর আলী @ বাটন @ ডিপজল ডাকাত (৩১), হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল এলাকার আমিন আলী (৩৪)। গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আন্তঃ জেলা ডাকাত দলের সদস্য কবির হোসেন প্রকাশ জীবন প্রকাশ আমিরের বিরুদ্বে ৪টি ডাকাতি, ১টি দস্যুতা, ২টি ডাকাতির প্রস্তুতি, ১টি অস্ত্র, ২টি চুরি ও ৩ টি অন্যান্য মোট ১৩ টি মামলা রয়েছে।আশিকের বিরুদ্বে ২টি ডাকাতি, ১টি ডাকাতির প্রস্তুতি, ১ টি অস্ত্র, ১টি পুলিশ আক্রান্ত সহ ৫ মামলা রয়েছে।আলী আহম্মদ @ মনু মিয়ার বিরুদ্বে ১টি মাদক মামলা, ও আবুল হোসেনের বিরুদ্বে ১টি মাদক মামলা রয়েছে।আবুল কালাম এর বিরুদ্বে ১টি ডাকাতি মামলা রয়েছে।মোঃ মিটুর বিরুদ্বে ২টি ডাকাতি, ১টি মাদক, সহ ৩টি মামলা রয়েছে।মনোয়ারুজ্জামান ইমন @ শাকিলের বিরুদ্বে ৩টি ডাকাতি, ১টি ডাকাতির প্রস্তুতি, ১টি হত্যা, ৫টি চুরি, ১ টি ধর্ষণ সহ ১১টি মামলা রয়েছে.মোঃ মামুন : ২ ডাকাতির প্রস্তুতি, ৬ চুরি, ১ মাদক, ১ অন্যান্য, মোট ১০ মামলা।ফজর আলী @ বাটন @ ডিপজল ডাকাত: ৬ ডাকাতি, ১৪ ডাকাতির প্রস্তুতি, ৫ অস্ত্র, ২ চুরি, ১ দস্যুতা, ১ পুলিশ আক্রান্ত, মোট ২৯ মামলা।আমিন আলী: ৪ ডাকাতি, ২ ডাকাতির প্রস্তুতি, ২ চুরি, দস্যুতা, ১ অস্ত্র, ২ অন্যান্য, মোট ১৩ মামলা বলে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফ্রিং করার সময়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহম্মদ খান জানান ।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ