
মিনহাজুল ইসলাম মাসুম
“আদুভাই এখন ভার্সিটিতে।” একটু আগেও যিনি ছিলেন ফাঁসির মঞ্চে। শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন নয় কেবল, আমূল পরিবর্তন ও ছাত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে কায়েমি স্বার্থবাদীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া প্রতিটি ছাত্রের প্রিয় আইমান আদিল ওরফে আদু ভাই। ছাত্রজনতার প্রাণভোমরা ও অণুপ্রেরণার আলোকবর্তিকা আদু ভাই। তিনি কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন না। বিচারের নামে এ প্রহসন মেনে নেয়া যায় না। কেন নিরঅপরাধ আদুভাই অপরাজনীতির শিকার হবেন? কেন প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গডফাদারদের ছায়ায়, বুক উঁচিয়ে মুক্ত আলো-বাতাসে ঘুরে বেড়াবে? এটাই ছাত্রজনতার মনে সৃষ্ট প্রশ্ন!
আসলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্ররা অপরাজনীতির শিকার হোক তা কারো কাম্য নয়। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে অভিভাবকরা সন্তানদের পাঠায় সৎ ও আদর্শ মানুষ হওয়ার জন্য। কিন্তু রাজনীতির বলি হয়ে লাশ হয়ে ফেরত আসে ঘরে। এছাড়া সেশন জট, অন্তঃকোন্দল, খুন, ধর্ষণ, মারামারি, টেন্ডারবাজি, হল দখল, ইভটিজিং এবং নেশাদ্রব্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি অপকর্মে দেশের প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ বিষবৎ। আছে দলভিত্তিক শিক্ষক রাজনীতি। এ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় পাড়ার ভেতরকার চিত্র। এর চেয়ে কুৎসিতরূপ তুলে ধরেছেন গল্পকার। তিনি লিখেন-
…বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বলা হয় ভগবান। তিনি না চাইলে পরীক্ষায় বসা যাবে না। পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া যাবে না। কেননা- ফলাফল তাঁরই হাতে। আর এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জন্ম হয় আদুভাইদের। জানি না- হয়তো একদিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হয়ে উঠবে আদুভাই তৈরির কারখানা।” গল্পকার মামুন সহজ ও সাবলীলভাবে নিজের চোখে দেখা মানুষ গড়ার কারখানাগুলোর প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছেন।
বর্তমান ঘুণে ধরা এ সমাজে বিয়েতে অস্বাভাবিক দেনমোহরের রমরমা প্রতিযোগিতা চলছে। অভিভাবকদের চাপিয়ে দেয়া পর্বতসম শর্তের জন্য ওসমান ভাইদের মত হাজার যুবকের দাম্পত্য জীবন বৈধভাবে পরিচালনা করা দুরূহ হয়ে গেছে। ফলে যেনা-ব্যভিচারও মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে আত্মহনন করাটা কারো কারো জন্য যেন ফ্যাশন। জীবন দেওয়ার মালিকের পরোয়া না করে নিজে জীবন নিজে হনন করার কুচিন্তাও অনেকের মনে বাসা বাঁধছে! শাশ্বত ও সুন্দর জীবনব্যবস্থা ইসলামের আলোকে যারা উচ্চকিত করতে চায় সেসব মহান ব্যক্তিদের পেছনে লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে সুন্দরী মেয়েদের স্পাইগার্লদেরকে। যাপিত জীবনের কষ্টিপাথরে ঘষা গল্পগুলো এক নিমেষেই পরে ফেলার মতো।
৫টি ছোটগল্পের সমন্বয়ে গ্রন্থটিতে ‘আদুভাই এখন ভার্সিটিতে’ ছাড়াও ‘এককাপ ডিপ্রেশন’, ‘দেনমোহর’, ‘গল্পটা উস্কানিমূলক’ এবং ‘স্পাইর্গাল’ গল্প দিয়ে সাজানো হয়েছে। গ্রন্থের প্রতিটা গল্পের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে মোহাবিষ্টতা। এ লেখাগুলো আবেগকে তাড়িত করে পাঠককে নিয়ে যাবে ভাবনার অসীম দুয়ারে। “আদু ভাই এখন ভার্সিটিতে” গল্পের বইটি পাঠকের অন্তর ছুঁয়ে যাবে এটা নিশ্চিত।
মামুনের প্রতিটি গ্রন্থ ও লেখায় মানবিক মূল্যবোধ, সত্যের জয়গান, মিথ্যের বিরুদ্ধে যুক্তিসিদ্ধ উপস্থাপন এবং শ্রেয়তর শুদ্ধ চিন্তার প্রতিফলন লক্ষণীয়। ‘শব্দ দরিয়ার উত্তাল তরঙ্গ’-তারুণ্যে টগবগ করা লেখক মামুন মুনতাসির আরো অ-নে-ক দূর এগিয়ে যাবেন এ আশা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

















