
দেশচিন্তা ডেস্ক: যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ফের হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছে। এদিকে ইসরাইলি বাহিনীর তল্লাশি অভিযান, ধরপাকড় ও হামলা অব্যাহত রয়েছে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় চলমান দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি এবং ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের পরও ইসরাইলি বাহিনীর হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না গাজাবাসী। প্রায় প্রতিদিনই চালানো হচ্ছে হামলা।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গাজা উপত্যকার একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। হামলায় মধ্য গাজায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর আগে গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে একটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি বিমান হামলায় কমপক্ষে চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলাগুলোতে বেসামরিক মানুষের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। চলমান সংঘাতে গাজায় মানবিক পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।
এর আগে গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গাজায় অন্তত ৯ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরাইল। গাজার চিকিৎসা সূত্র জানায়, গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলের আল-নাসর স্ট্রিটে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে হামলায় তিনজন নিহত হন।
এদিন দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস উপকূলে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে একজন ফিলিস্তিনি জেলে আহত হন। এছাড়া উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া শহরের আবু তাম্মাম স্কুলের পাশে ইসরাইলি সেনার গুলিতে ৫৪ বছর বয়সি এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এছাড়া মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলে এক কৃষককে হত্যা করে ইসরাইলি সেনারা। দক্ষিণ গাজায় আরও চার ফিলিস্তিনি নিহত হন। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ইসরাইলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর প্রায় ৭২ হাজার ৩২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ৫৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১ হাজার ৫৫৩ জন আহত হয়েছেন।


















