
দেশচিন্তা ডেস্ক: রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে ২০তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন এক লিখিত বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছেন।
উরসুলা বলেছেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর এটি ইইউ-এর আরোপ করা ২০তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ। এ প্যাকেজ মূলত জ্বালানি, আর্থিক সেবা ও বাণিজ্য খাতকে লক্ষ্য করে প্রণয়ন করা হয়েছে।
ফন ডার লায়েন জানিয়েছেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের ওপর সম্পূর্ণ সামুদ্রিক সেবা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য মস্কোর জ্বালানি আয়ের পথ আরও সংকুচিত করা।
প্রেসিডেন্ট বলেছেন,“আমরা রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর সঙ্গে যুক্ত আরও ৪৩টি জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করছি। এতে মোট নিষিদ্ধ জাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৪০টি। পাশাপাশি এলএনজি ট্যাংকার ও আইসব্রেকারের রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য সেবা প্রদানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে যাতে রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানি প্রকল্পগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
রাশিয়ার আর্থিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে দ্বিতীয় দফার পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। এর আওতায় ২০টি অতিরিক্ত আঞ্চলিক ব্যাংককে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হচ্ছে যাতে বিকল্প অর্থপ্রদানের চ্যানেল তৈরি করা কঠিন হয়।
ফন ডার লায়েন আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার পথ বন্ধ করতে আমরা ক্রিপ্টোকারেন্সি, ক্রিপ্টো লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান ও প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। একই সঙ্গে তৃতীয় দেশের যে-সব ব্যাংক নিষিদ্ধ পণ্যের অবৈধ বাণিজ্যে সহায়তা করছে তাদেরও লক্ষ্য করা হচ্ছে।
এছাড়া রাশিয়ার রাবার, ট্রাক্টর ও সাইবার নিরাপত্তা সেবার মতো পণ্য ও পরিষেবার রফতানির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।
আমদানির ক্ষেত্রেও কঠোরতা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উ। নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসছে এমন কিছু ধাতু, রাসায়নিক ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যেগুলো এখনো নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত সামগ্রী উৎপাদনে সহায়ক প্রযুক্তির রপ্তানিও সীমিত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ। পাশাপাশি অ্যামোনিয়া আমদানির ওপর কোটা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ফন ডার লায়েন বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ইইউ অ্যান্টি-সার্কামভেনশন টুল সক্রিয় করতে যাচ্ছে। এর আওতায় এমন দেশগুলোতে কম্পিউটার নিউমেরিক্যাল কন্ট্রোল (সিএনসি) মেশিন ও রেডিও রফতানি নিষিদ্ধ করা হবে যেখানে সেগুলো রাশিয়ায় পুনরায় রফতানির ঝুঁকি রয়েছে।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, রাশিয়ায় নিষেধাজ্ঞা সংশ্লিষ্ট আদালতের রায়ের মাধ্যমে ইইউভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অন্যায্য সম্পত্তি দখল বা মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের ঘটনা ঠেকাতে আইনি সুরক্ষা জোরদার করা হবে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি দ্রুত এই নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই যুদ্ধের ভয়াবহ চতুর্থ বার্ষিকীর আগে এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা দেবে।
সূত্র: ইউরো নিউজ


















