
দেশচিন্তা ডেস্ক: নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির আয়োজনে ‘গণভোট নিয়ে জনভাবনা’ গোলটেবিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় – বিজয় মিলনায়তনে নতুনধারার চেয়ারম্যান কলামিস্ট মোমিন মেহেদীর সভাপতিত্বে এতে অতিথি ছিলেন দৈনিক জনতার সংবাদ-এর সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, ব্যাংকার সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ও সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন নতুনধারার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. নূরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, ওয়াজেদ রানা, মহিদুল মল্লিক, হাশেম মোল্লা প্রমুখ। এসময় বক্তারা বলেন, ‘না’ বা ‘হ্যাঁ’র পক্ষে কোনোভাবেই সরকার প্রচারণা চালাতে পারে না। কিন্তু সরকার প্রধান ইঊনূস সরাসরি ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যেমন একটা পক্ষকে বিজয়ী করতে মরিয়া, ঠিক তেমনিভাবে প্রেস সচিব শফিকসহ প্রায় সকল উপদেষ্টা, সরকারি আমলা-কর্মচারি আজ জাতিকে দ্বিধান্বিত করতে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে কাজ করছেন। সব মিলিয়ে এই নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সকল সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এমতবস্থায় সাধারণ মানুষ এই নির্বাচনে ‘না’ ভোট ঠিক মত প্রয়োগ করবার যেমন নিরাপত্তা পাচ্ছে না, সেই সাথে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও সেই ভোট যে ইঞ্জিনিয়ারিং-এর হবে কি না তা নিয়েও যথেষ্ট ধোয়াশা রয়েছে।
গোলটেবিলে বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান আলী বলেন, নির্মম হলেও সত্য গত ৫৪ বছরের ইতিহাস স্বাধীনতাকে সকল সরকারের ব্যবহারের ইতিহাস। অথচ আমরা রক্ত-শ্রম- মেধা-জীবন নিয়ে এই স্বাধীনতাকে অর্জন করেছিলাম মানুষের মুক্তির জন্য। আজ সেই মানুষের মুক্তি ভুলুন্ঠিত, স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ক্ষমতায় আসার স্বপ্নে বিভোর তারাই, যারা বাংলাদেশ চায়নি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি। বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘না’ ভোট দিতে যে যাবো, তার পরে ফিরতে পারবো কি না, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হচ্ছে। ব্যাংকের সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নিরাপত্তা নেই, ভোট দিতে যাবো কিভাবে? এমন একটা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে রেখে ঠিক মত জনতা ঘুমাতে না পারলেও, প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারের প্রায় সবাই-ই শিক্ষার্থী নামক টাউটদের দায়মুক্তি দিতে বদ্ধ পরিকর। সাংবাদিক নাসির উদ্দীন বুলবুল বলেন, দেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ সরকার কিভাবে নির্বাচন আয়োজন করলো, তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। নতুনধারা সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা বলেন, এই সরকার কোনোভাবেই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কথা ভেবে এই নির্বাচন দেয়নি। নির্বাচন দিয়েছে ছাত্রশিবির-জামায়াত আর এনসিপির মত দেশবিরোধী চক্রকে ক্ষমতায় আনবার জন্য। এই নির্বাচনে ভোট দেবার কোনো পরিস্থিতিও তারা রাখেনি। সভাপতির বক্তব্যে মোমিন মেহেদী বলেন, দেশের মানুষের কোনো মূল্য যাদের কাছে নেই, তাদের আয়োজিত নির্বাচন মানেই যে, জীবন নেয়ার মহাউৎসব তার প্রমাণ হাদি হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তারা দিয়েছে। আর তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটলেও নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ সরকার বড় বড় কথা বলা ব্যতিত আর কিছু করতে পারেনি। এমতবস্থায় এই নির্বাচন নির্মম মৃত্যুকূপে পরিণত হচ্ছে।











