আজ : সোমবার ║ ১৫ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আজ : সোমবার ║ ১৫ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ║২রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ║ ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

নগরায়নের নামে নির্বিচারে গাছ ও পাহাড় কাটা যাবেনা : ড. হাছান মাহমুদ

 

দেশচিন্তা ডেস্ক:

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পৃথিবীর সর্বোচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্ব ও মাথাপিছু কম জমির আমাদের এ দেশে অনেক সময় নগরায়নের নামে নির্বিচারে গাছ ও পাহাড় কাটা হয়ে থাকে। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানও জেনে বা না জেনে এ কাজ করে থাকে। এ ধারা বন্ধ করতে হবে। করোনা মহামারি অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা বেশি করে উপলব্ধি করাতে পেরেছে উল্লেখ করে তিনি বৃক্ষরোপণে সরকারের পাশাপাশি বেসকারি সংগঠনসমূহের আরো অংশ গ্রহণ কামনা করেন।

মন্ত্রী আজ চট্টগ্রামের সিআরবি’র শিরিষতলায় মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ১ কোটি বৃক্ষরোপনের অংশ হিসেবে তিলোত্তমা চট্টগ্রাম আয়োজিত ৫ লাখ বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধনকালে একথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিবেশের কথা মাথায় রাখতে হবে। পাহাড় কেটে শহর বৃদ্ধি করতে হবে-এ রকম চিন্তা পরিহার করতে হবে। সুপরিকল্পিত উপায়ে শহরের আয়তন বৃদ্ধি না করলে পঞ্চাশ বছর পর চট্টগ্রাম নগরীর আজকের সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে তিনি এ সময় উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদীর দু’পাড় অবৈধ দখলদাররা দখল করেছে। দখল বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, ঝড় জলোচ্ছাস বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে রক্ষা পেতে যত বেশি সম্ভব গাছ লাগাতে হবে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ১৯৮৩ সাল থেকে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা কৃষক লীগের মাধ্যমে দেশে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃক্ষরোপন কর্মসূচীকে বৃক্ষরোপন আন্দোলনে রুপ দেন। ফলে দেশে বৃক্ষরোপনে ব্যাপক সাড়া পড়ে। মানুষ নিজ প্রয়োজনে গাছ লাগানো শুরু করে। হাট-বাজার থেকে মানুষ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার পাশাপাশি বর্তমানে নিত্য পণ্য হিসেবে গাছও কেনে বলে তিনি এ সময় উল্লেখ করেন।

খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংম্পূর্ণ, শাক-সবজি উৎপাদনে বিশ্বে ৪র্থ, মাছ উৎপাদনে ৫ম, আলু উৎপাদনে ৭ম উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এসব কিছু সম্ভব হয়েছে উর্বর জমি এবং সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের কারনে। এ সাফল্য ধরে রাখতে হবে।জনসাধারণের মধ্যে বৃক্ষরোপনে সরকার যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছে তা অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, কৃষি জমি সংরক্ষণসহ পরিকল্পিত নগরায়নের জন্য সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশব্যাপী সবুজ বেষ্টনীর পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে। বৃক্ষরোপনে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে এগিয়ে আসায় তিনি তিলোত্তমা চট্টগ্রামকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান এবং এ কাজে বেশি বেশি সামাজিক সংগঠনের অংশ গ্রহণ প্রত্যাশা করেন।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শাহেলা আবেদীন রিমা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, উপপুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক, সাংবাদিক ওসমান গণি মনসুর, কবি রাশেদ রউফ, প্রেস ক্লাব সাধারন সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, শিল্পপতি এস এম আবু তৈয়ব, লায়ন ইফতেখার সোহাগ, শামসুদ্দিন সিদ্দিকী, কাউন্সিলর মো. সাইফুদ্দিন খালেদ প্রমূখ বক্তৃতা করেন।

পরে মন্ত্রী সিআরবিতে গাছের চারা রোপন করেন। এর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছিলো, তারা তাদের ফেরত পাঠাতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারনে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ মানবিকতা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারনে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালত থেকে সমন দেওয়াসহ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ