আজ : সোমবার ║ ১৫ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আজ : সোমবার ║ ১৫ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ║২রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ║ ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

নরসিংদীতে  ৫৫ কোটি টাকার খাসজমি দখলমুক্ত করলো প্রশাসন

নরসিংদীতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের দখলে থাকা খাসজমি উদ্ধারে তৎপর হয়ে উঠেছে প্রশাসন। বিগত এক মাসে শিল্পশহর মাধবদী ও নরসিংদী শহরসহ পাশের ইউনিয়নের কোটি কোটি টাকা মূল্যের খাসজমি দখলমুক্ত হওয়ায় খুশি স্থানীয়রা। এসব জমি উদ্ধার হওয়ায় সরকারের রাজস্ব বাড়াসহ ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী সদর উপজেলার শিল্পশহর মাধবদী ও নরসিংদী পৌরসভাসহ পাইকার চর, মহিষাশুরা, হাজিপুর, চিনিশপুর, মেহেরপাড়া, কাঠালিয়া ও আমদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে শত শত একর খাসজমি। এসব সরকারি জমি অবৈধ দখলে রেখে নির্মাণ করা হয় দোকানপাট, বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন ধরনের অনুমোদনহীন স্থাপনা। কোথাও কোথাও খাল ও নালা দখলের কারণে সৃষ্টি হয় পানি নিষ্কশনে প্রতিবন্ধকতা। খাসজমি অবৈধভাবে দখলে থাকার কারণে সরকার বঞ্চিত হয়ে আসছিল রাজস্ব থেকে।

খাসজমি দখলমুক্ত করতে অভিযানজেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইনের নির্দেশে খাসজমি উদ্ধারে গত ১০ আগস্ট থেকে অভিযান শুরু করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্যেট মো. শাহ আলম মিয়া। বিগত এক মাসে দফায় দফায় পরিচালিত এ উচ্ছেদ অভিযানে নরসিংদী সদর উপজেলার প্রায় ৫৫ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ১১ একর খাস জমি দখলমুক্ত করা হয়।

আমদিয়া ইউনিয়নে খাসজমি ভোগ দখলে থাকা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৮৪ সাল থেকে আমার বাবা-দাদারা এই জমি লিজ নিয়ে ভোগ দখলে করে আসছে। এরপর থেকে আমরাও ভোগ দখলে আছি, কিন্তু আমরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খাজনা পরিশোধ করিনি, এটা আমাদের ভুল হয়ে গেছে। এতে আমাদের দখল অবৈধ হয়ে গেছে। সরকার যদি বরাদ্দ দেয় তাহলে আমরা নবায়ন করে জমি বরাদ্দ নিতে চাই।’

খাসজমি দখলমুক্ত করে লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে পাইকারচর ইউনিয়নে খাস জমি দখলকারী আল আমিন বলেন, ‘আমরা তো কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নই। সরকার খাসজমি যেভাবে বরাদ্দ দেবে, আমরা সেই মোতাবেক বরাদ্দ নিতে চাই।’

সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার শামীম আহসান দেলোয়ার বলেন, ‘যুগযুগ ধরে খাসজমি বেদখলে থাকায় সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়ে আসছিল। বর্তমান জেলা প্রশাসন এসব জমি উদ্ধারে তৎপর হওয়ায় বেদখলকারীরা সরকারি নিয়ম মেনে জমি বরাদ্দ নিতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় ভূমিহীনরা খাসজমি বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ হচ্ছে।’

খাসজমি দখলমুক্ত করে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছেনরসিংদী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, ‘অবৈধ দখলকারীরা এসব খাস জমিতে দোকানপাট, বাসাবাড়ি, মুরগির খামার, গরুর খামার, শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন ধরনের অনুমোদনহীন স্থাপনা নির্মাণ করে ভোগ দখল করে আসছিল। সরকারি স্বার্থ, সম্পদ-সম্পত্তি রক্ষা এবং সংরক্ষণের জন্য বেদখলে থাকা এসব খাসজমি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

নরসিংদীর জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারি জমি অবৈধ দখল মুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। এসব খাসজমি উদ্ধারের ফলে সরকারের রাজস্বপ্রাপ্তি নিশ্চিতসহ আইনি প্রক্রিয়ায় ভূমি বরাদ্দের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’

খাসজমি দখলমুক্ত করে লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছেতিনি আরও বলেন, ‘নরসিংদী জেলায় বিগত আড়াই বছরে খাসজমি উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২১ একর, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিগত দুই মাসেই উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১৭ একর। এর মধ্যে বিগত এক মাসে সদর উপজেলায় উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১১ একর, যার মূল্য প্রায় ৫৫ কোটি টাকা।’

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ