
শেখ সাঈদ আনোয়ার
কলম হাতে ধরা মাত্রই মানুষ তার চিন্তা, স্বপ্ন, ভাবনা শৈল্পিক কারুকাজে কাগজে তুলে ধরার নামই সাহিত্য। আমার কথার সাথে দ্বিমত থাকাকে বাঁকা চোখে দেখি না, তবে সকলে একবাক্যে স্বীকার করতে বাধ্য, সাহিত্য সাধনাই তার আত্মার নিবিড় উপলদ্ধি করতে সক্ষম।
সাহিত্য শুধু লেখনির বিষয় নয়, সাহিত্য হলো ধ্যান আর জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ। সাহিত্য এক অদ্ভুত জগৎ, সেই জগতে কেউ পা রাখলে, মৃত্যু ব্যাতীত কোনো কিছুই ওই জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম নয়।সাহিত্য রস যে একবার আস্বাদন করেছে, সে স্বাদ কখনোই ভুলার নয়।
পাড়াগ্রামে সেই ছোট্ট কিশোরটি যখন স্বপ্নে বিভোর থাকে, সাহিত্যের মাধ্যমে তার স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে।যে প্রমিক তার প্রিয়তমার নেশাই মত্ত হয়েছে, সেই তার প্রিয়তমার রূপ, গুন, আবেগ ফুটে তোলার আকুতি খুঁজে পাই সাহিত্যের মাঝে। ভার্সিটি পড়ুয়া সেই লাবণ্যময়ী শাড়ি পড়া রমনীটিও কোনো এক উপন্যাসের পাতায় নিজেকে সঁপে দিয়েছে, কল্পনার রাজ্যের সে তার প্রেমিক পুরুষকে পাওয়ার সন্ধানে নিমত্ত। কোনো এক নদীর পাড়ে বসে প্রেমিকের হাত ধরে বাদামের খোসা ফেলে উপন্যাসের কাব্যিক ছন্দে নিজেকে জড়াতে থাকে।
বিপ্লবী আর নেতৃত্বের মাঝে গড়ে সেই তরুণে প্রত্যাশা সেই জাতিকে মুক্তির পথ দেখাবে।শোষণ, নির্যাতন বিরুদ্ধে রূখে দাঁড়িয়ে সেই বিপ্লবের ঘোষণা দিবে।দেশকে দেখাবে মুক্তির পথ,জ্বালাবে জ্ঞানের আলো।জ্ঞান, মেধা,প্রজ্ঞাই আলোকিত করবে সারা বিশ্ব।সে তার মুক্তির কথা,সংগ্রামের কথা, ত্যাগের কথা তুলে ধরবে সাহিত্যের মাঝে।লাইব্রেরি,ল্যাব,গবেষণা রূমে পড়ে থাকা স্বপ্নবাজ সেই বিজ্ঞানী তার চিন্তা,গবেষণা, উদ্ভাবনী কথা বলবে সাহিত্য রচনায়।
সাহিত্য সাধনাই একজন আইনজীবী তার শাসন,বিচার ব্যাবস্থার কথা বলবে।
একজন সাহিত্যিক কখনোই তার আদর্শকে কারোর কাছে বিক্রি করে না,তার সাহিত্যের পতন তখনি ঘটে যখন গোলামের ঝিন্জির হাতে বেঁধে তার স্বাধীনচেতাকে উপড়ে ফেলে দিবে।তার লেখা রচনা, প্রবন্ধ পড়ে জাতি তার মুক্তির পথ খুঁজে পাবে।মানুষের দৈহিক মৃত্যু ঘটতে পারে।
কিন্তু তার রেখে যাওয়া সাহিত্য তাকে সোনাতরী কবিতার সোনাধানের মত অমর করে তুলবে।আমার প্রবন্ধ অনুধাবন করে একথা ভাবিয়েন না যে আমি আপনাকে সাহিত্যিক হতে বলছি।আমি নিজেও কোন সাহিত্যিক নই,তবে আমাকে একজন স্বাধীনচেতা লেখক বললেও কিছু মনে করব না।এতটুকু আত্মবিশ্বাস তো রাখাই যায়,আমার লেখা আপনার হৃদয় নাড়া দিবে সাহিত্য ভাবনা।
লেখক: শেখ সাইদ আনোয়ার
কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

















