আজ :

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার : তথ্যমন্ত্রী

দেশচিন্তা ডেস্ক: নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়ে এগোতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি) আয়োজিত এক নীতিনির্ধারণী সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

সংলাপে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয় নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও উন্নয়ন সক্ষমতার সঙ্গেও জড়িত। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়ে এগোতে হবে।

সংলাপে উপস্থাপিত বিডব্লিউজিইডির এক গবেষণায় বলা হয়, দেশে প্রতি ১ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করলে বছরে প্রায় ৩০ হাজার টাকার জ্বালানি তেল আমদানি সাশ্রয় সম্ভব। একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ২০ বছরের আয়ুষ্কালে এর মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

সংগঠনটির প্রতিনিধি ও ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে সরকারি সহায়তা ব্যয় নয়, বরং এটি এমন একটি বিনিয়োগ, যা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি আমদানির ব্যয় কমায় এবং দেশের জ্বালানি স্বাধীনতা শক্তিশালী করে।

বিডব্লিউজিইডির প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে গঠিত বিশেষ তহবিল থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে ঋণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত আবাসিক ও কৃষি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য প্রতি কিলোওয়াটে ২৫ হাজার টাকা সরাসরি ভর্তুকি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বছরে প্রায় ২১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা সরকারকে সরাসরি ভর্তুকি হিসেবে দিতে হবে। নারী, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ প্রণোদনারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংগঠনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেই এসআরও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে, যার মাধ্যমে কর–সুবিধা মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তিভিত্তিক বড় প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌর সেচ ও অন্যান্য বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগেও সমান কর–সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

আজকের সর্বশেষ সংবাদ