
দেশচিন্তা ডেস্ক: ডিজিটাল লেনদেন সেবা চালুর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) লাইসেন্স পেয়েছে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক। ‘মুক্ত পে’ নামে এই ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা চালুর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল লেনদেনের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলো অপারেটরটি।
গ্রাহকদের সহজ, নিরাপদ ও সহজলভ্য ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ দেবে বাংলালিংকের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সেবা ‘মুক্ত পে’। ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর, ক্যাশলেস লেনদেন বাড়ানো এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার যাত্রায় অবদান রাখবে এই সেবা।
দৈনন্দিন ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ ও সুবিধাজনক করার লক্ষ্য নিয়ে ‘মুক্ত পে’ সেবা চালু করছে বাংলালিংক। দেশের মানুষের কাছে মোবাইল সংযোগ আরও সহজলভ্য করার যে অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেটিকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল আর্থিক সেবা খাতেও সুযোগ বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। ‘মুক্ত পে’-এর মাধ্যমে ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিসর আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বৈষম্য নিরসনেও কাজ করবে এই সেবা।
বিশেষ করে ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে থাকা বা কম সেবাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ছোট উদ্যোক্তাদের ‘মুক্ত পে’-এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষ দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে মানুষকে যুক্ত হবে।
বাংলালিংকের দেশজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, বৃহৎ গ্রাহকভিত্তি ও ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে আর্থিক সেবার আওতার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিকে বিশেষ প্রাধান্য দেবে ‘মুক্ত পে’।
এ লাইসেন্স প্রাপ্তি বাংলালিংক ও এর মূল প্রতিষ্ঠান, বৈশ্বিক ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ভিওনের বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবায় বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এর মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ কোম্পানি থেকে ডিজিটাল অপারেটরে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগোল বাংলালিংক। সংযোগসেবার পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনভিত্তিক ডিজিটাল ও আর্থিক সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কার্যক্রম বিস্তৃত করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইওহান বুসে বলেন, “ক্যাশলেস লেনদেনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে বাংলাদেশকে আরও বেশি মানুষকে আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি এমন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় আরও বেশি মানুষ অংশ নিতে পারেন। ‘মুক্ত পে’ সে লক্ষ্য পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলালিংকের দেশজুড়ে বিস্তৃত সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ ও স্থানীয় গ্রাহকদের সম্পর্কে আমাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ভিওনের আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা ডিজিটাল পেমেন্টকে মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য ও প্রাসঙ্গিক করতে চাই। এই লাইসেন্স ডিজিটাল আর্থিক সেবায় আরও বিনিয়োগের পাশাপাশি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, ক্যাশলেস ও ডিজিটালি সক্ষম বাংলাদেশ গড়ে তোলার আমাদের লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিচ্ছে, যাতে সবার জন্য আরও সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিত হয়।”
‘মুক্ত পে’-তে টাকা লেনদেন, মার্চেন্ট ও ই-কমার্স পেমেন্ট, ইউটিলিটি ও সরকারি বিল পেমেন্ট, বেতন ও অন্যান্য অর্থ বিতরণসহ অনুমোদিত বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা পাওয়া যাবে।
ডিজিটাল লেনদেন সেবার পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যুক্ত হতে আগ্রহী ভিওন। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে।











