আজ : শুক্রবার ║ ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : শুক্রবার ║ ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

পাকিস্তানে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে নিহত ৪০

দেশচিন্তা ডেস্ক: পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া সীমান্তে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন।

শুক্রবার (০৩ জুলাই) সকালে সীমান্তবর্তী শেরানি-ঝোব মহাসড়কের দানাসার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা শহীদ রিন্দ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী বাসটি ব্রেকফেল করে পাহাড়ি খাদে পড়ে যায়। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া উভয় প্রদেশের জেলা প্রশাসন, উদ্ধারকারী দল এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

শেরানির ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) ওয়ালি খান কাকার ঘটনাটির স্থান ও অন্যান্য বিবরণ নিশ্চিত করে বলেন, বাসটি ৩৬ জন যাত্রী নিয়ে কোয়েটা থেকে ছেড়েছিল, কিন্তু মাঝপথে বিকল হয়ে যাওয়া অন্য একটি বাস থেকে আরও লোক তাতে উঠে পড়ে।

পৃথকভাবে পাকিস্তানের জরুরি পরিষেবা- রেসকিউ ১১২২-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ার সময় এতে ৪৮ জন যাত্রী ছিলেন।

এতে আরও বলা হয়েছে যে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রেসকিউ ১১২২-এর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহত আটজনকে উদ্ধার করে ঝোবের জেলা সদর হাসপাতালে (ডিএইচকিউ) নিয়ে যাওয়া হয় এবং মরদেহগুলোকে প্রথমে নিকটবর্তী একটি গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে মৃতদেহগুলো ঝোব ডিএইচকিউ-তে স্থানান্তর করা হয়।

এই ঘটনা শোক প্রকাশ এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এক এক্স পোস্টে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট জারদারি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং তাদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া সীমান্তবর্তী পুরো অঞ্চলটি অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জুড়ে অবস্থিত। মহাসড়কটিতে অসংখ্য তীব্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। দ্রুত গতিতে চলার সময় বড় যাত্রীবাহী বাসগুলোর জন্য এসব বাঁকে নিয়ন্ত্রণ রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এই বিপজ্জনক পাহাড়ি রুটগুলোতে প্রয়োজনীয় হাইওয়ে সেফটি ব্যারিয়ার বা কোনো ধরনের কাঠামোগত নিরাপত্তা প্রাচীর নেই। এর ফলে সামান্য নিয়ন্ত্রণ হারালেই গাড়ি সরাসরি শত শত ফুট গভীর গিরিখাতে বা খাদে ছিটকে পড়ে।

এর আগে, গত ৩১ মার্চ খাইবার পাখতুনখোয়ার আপার চিত্রালে পাঁচজন যাত্রীসহ একটি জিপ ভেজা ও পিচ্ছিল রাস্তা থেকে পিছলে একটি গভীর খাদে পড়ে যায়। এর ফলে এক শিশুসহ তিনজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হন।
সূত্র: ডন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

আজকের সর্বশেষ সংবাদ