আজ :

ঘুষ ও পার্সেন্টেজ সংস্কৃতির কারণে উদ্যোক্তারা বিদেশমুখী হচ্ছেন: শফিকুর রহমান

দেশচিন্তা ডেস্ক: জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কেউ যদি উষ্মা প্রকাশ করেন, তাহলে তাদের উষ্মার ওপরে আমরা একটা গরম শ্বাস ছেড়ে দেবো।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে নেত্রকোণা সার্কিট হাউজে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেত্রকোণা জেলা শাখার উদ্যোগে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খুলাফায়ে রাশেদিনের নামে সেনাবাহিনীতে ৪টি নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। ভারতের পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। চার খলিফার নামে যে ব্রিগেডের নাম রেখেছেন, সেটা সেনাবাহিনী বলতে পারবে। কারণ আমাদের সাথে তো এই নিয়ে কোনো ডিসকাশন হয় নাই এবং কোনো শেয়ারিংও হয় নাই। তবে বিশ্বের বহু জায়গায় এইরকম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের, ইন্টারন্যাশনাল ফিগার, ন্যাশনাল ফিগার, এদের নামে নাম রাখার অনেক ইতিহাস আছে। এই নিয়ে ভারত, মায়ানমার, তারপরে চীন, নেপাল, তারা আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কেন উষ্মা প্রকাশ করবে? তারা যদি উষ্মা প্রকাশ করেন, তাহলে তাদের উষ্মার ওপরে আমরা একটা গরম শ্বাস ছেড়ে দেবো।

তিনি আরও বলেন, আমাকে একজন প্রশ্ন করেছিলেন যে, আমাদের তিস্তা প্রকল্প যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে কোনো প্রতিবেশী নাখোশ হবে কিনা। আমি বললাম, না, আমাদের সব প্রতিবেশীই তো আমাদের বন্ধু। বন্ধুর উন্নয়নে তো বন্ধুর খুশির জোয়ার শুরু হওয়ার কথা। আমরা সেই জোয়ারটাই আশা করি।

এসময় দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, কবে আমরা সেই সুশাসনটা পাবো? যেখানে সুষম উন্নয়ের বাস্তবতা আমরা দেখব? এ সরকারের সময় হবে কিনা আমি জানি না। আলামত ইতোমধ্যেই কিছু বেশকম আমরা লক্ষ্য করছি। আপনারা দেখেছেন সংসদের ভেতরে আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছি। যে সমস্ত এলাকায় বর্তমান সরকারের দলের সংসদ সদস্যরা রয়েছেন, সেই সমস্ত এলাকায় ছোটখাটো কিছু অনুদান দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলীয় সদস্যদের ওখানে তা দেওয়া হয়নি।

জামায়াতের আমির বলেন, কোনো দেশের যারা শাসক থাকেন, দেশ পরিচালনা করেন, তারা দেশের প্রতি ইঞ্চি মানুষ এবং প্রতি ইঞ্চি জমি এবং প্রত্যেকটি মানুষের জন্য দায়িত্বশীল। তারা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা এলাকা, গোষ্ঠী, দল কারো জন্য নন, তারা মানুষের জন্য। আমরা বারবার এই কথা বলে আসছি, বলে থাকবো, বলতে থাকব এবং যেখানেই বৈষম্য দেখব, সেখানেই আমরা আওয়াজ তুলব।

নেত্রকোণাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নেত্রকোণায় আপনারা ভাগ্যবান। এবার হাউজের ডেপুটি স্পিকার এই এলাকারই একজন সন্তান, তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। আরো গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ আছেন, সংসদ সদস্যরা আছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীরও একজন সংসদ সদস্য মাসুদ মোস্তফা, তিনি এখান থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দুটি চিত্র দেখে অভ্যস্ত, তৃতীয় আরেকটি চিত্র এই জাতি কখনও দেখেনি। এটি হচ্ছে- সংসদে সরকারি দল এবং বিরোধী দলের ন্যায্য ভূমিকা। সরকারি দলও সীমালঙ্ঘন করবে না আচরণে, আর বিরোধী দলও অন্ধের মতো বিরোধিতা করবে না। সরকারি দল ভালো কিছু করলে বিরোধী দল সমর্থন দেবে, কারণ এটি তো দেশ এবং জাতির স্বার্থ। আর সরকারি দল কোনো ভুল করলে বিরোধী দল ধরিয়ে দেবে। যদি ধরিয়ে দেওয়ার এই কাজটি সরকারি দল সহজভাবে না নেয়, তখন বিরোধী দল সংসদের ভিতরে জনগণের হয়ে অবশ্যই প্রয়োজনে বাঘের গর্জন করবে। কিন্তু কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। একটা সরকারের দুইটা অঙ্গ—একটা সরকারি দল, একটা বিরোধী দল। এই দুইটা ছাড়া সংসদীয় গণতন্ত্র চলে না, অচল। এখানে মিউচুয়াল রেসপেক্ট থাকতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্য থাকতে হবে। আমরা সেটাই চেষ্টা করছি।

নেত্রকোণা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে পারস্পরিক মতবিনিময় করেন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

আজকের সর্বশেষ সংবাদ