আজ : সোমবার ║ ৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : সোমবার ║ ৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২৩শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ১৮ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

২৪-এর অর্জন রক্ষা না হলে ২৬-২৭ সালে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে: সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ

দেশচিন্তা ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আপনারা (বিএনপি সরকার) প্রায়ই বলেন যে আগামী ১৫-২০ বছরেও দেশে কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না। কিন্তু ইতিহাসে এর নজির রয়েছে। ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন যখন রক্ষা করা যায়নি, তখনই ৭১ সংঘটিত হয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন ও চেতনা যদি রক্ষা করা না যায়, তবে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

রোববার (৫ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটের রায় উপেক্ষা করা, রাষ্ট্র সংস্কারের জরুরি অধ্যাদেশগুলো বাতিল এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা বারবার বিএনপিকে সংবিধানের কথা বলতে দেখি। অথচ প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করছে। সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতে হবে। অথচ পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলো বহাল রাখার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের হাতে এমন ক্ষমতা রেখে দেওয়া হচ্ছে, যাতে যেকোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিকে যেকোনো সময় অপসারণ করা যায়। এতে বিরোধী দলের কেউ নির্বাচিত হলে তাকে অপসারণের ভয় দেখিয়ে অনুগত ‘প্রশাসক’ বানিয়ে রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা সুস্পষ্ট সংবিধান লঙ্ঘন।

ফোনে আড়ি পাতার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আওয়ামী শাসনামলে ১৮-১৯টি এজেন্সির মানুষের ব্যক্তিগত ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা ছিল এবং তাদের ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতা কমিয়ে মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ করেছিল এবং আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সংস্কারধর্মী অধ্যাদেশটি বাতিল করে আবারও ১৮-১৯টি এজেন্সির হাতে অবাধে আড়ি পাতার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে।

এনসিপি মুখপাত্র বলেন, বিগত সময়ে আমরা ফ্যাসিবাদ দেখেছি, আর এখন বর্তমান সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারের সকল লক্ষণ ফুটে উঠছে। যদি এই সরকার গণভোটের রায় মেনে না নেয়, তবে সেদিন থেকেই আমরা তাদের ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে ঘোষণা করব। আপনারা যেমন আমাদের অর্জনগুলো ধূলিসাৎ করতে সময় নিচ্ছেন না, আমরাও আপনাদের অবৈধ বলতে সময় নেব না।

তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকেই এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি, কিন্তু আপনাদের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় আমরা সকল অংশীজনদের সঙ্গে বসে কাজ করতে আগ্রহী। এত দ্রুত রাজপথে নামার পরিকল্পনা বিরোধী জোটের ছিল না; কিন্তু গণভোট নিয়ে যে নাটকীয়তা শুরু হয়েছে, তাতে রাজপথে নামা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই। এটি কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ আরও অনেকে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ