
দেশচিন্তা ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শহীদ আবরার ফাহাদ আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তিনি নিজেই একটি বিদ্রোহী বিপ্লবের নাম। আধিপত্যের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন—এটাই তার অপরাধ। এজন্য তাকে নির্মমভাবে দুনিয়া থেকে বিদায় করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করে দিয়েছে বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে পরোয়া করে না। যাদের নেতৃত্বে এ জাতি ২৪শের লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করে মুক্তি পেয়েছে আমি সব শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
কুষ্টিয়ার নদী নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পদ্মা গড়াই নদীময় মরুভূমি। উপর থেকে যখন পানি আসে কখন পানি নদীতে থাকে না। পানির দুই কূল উপচে পড়ে সবকিছু তছনছ করে দেয়। বছরের পর বছর নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বহু মানুষের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে। নদী আল্লাহর নেয়ামত। আল্লাহর এই নেয়ামতকে তিলে তিলে এ দেশে খুন করা হয়েছে। নদী খননের জন্য প্রতিবছর বাজেট থাকে এই টাকা মুখ দিয়ে ঢুকে পেটের মধ্যে চলে যায় নদীর বালি আর ওঠে না।
তিনি বলেন, এদের সবার শুধু আমাদের না। দেশটি আমাদের সবার। আমাদের নেতৃবৃন্দদের খুন করা হলো, জেলে দেওয়া হলো, অফিস বন্ধ করে রাখা হলো, ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো, আমাদের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হলো, শেষ পর্যন্ত আমাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। আমরা আগস্টের ৫ তারিখ রাতেই ঘোষণা দিলাম আমরা কারোর উপর থেকে প্রতিশোধ নেব না। অন্যায়ভাবে কাউকে মামলার আসামি করা হবে না। আমরা অন্যায়ভাবে একটা মানুষকেও মামলার আসামি করিনি। আমাদের মামলায় একজন করে আসামি করা হয়েছে। আমরা দ্বিতীয় কোনো লোক পায়নি।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরে গণহারে মামলা দেওয়া হলো। এই মামলায় যাকে ইচ্ছা তাকে মামলা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তারপর মামলা মিমাংসার জন্য আবার ডাকা হয়েছে।
জামায়াতের আমির বলেন, ৫ আগস্টের পর জাগায় জাগায় আমাদের ভাইয়েরা নেমে পড়লেন চাঁদাবাজি করতে। সত্যি যদি আপনাদের সংসারে অভাব-অনটনের কারণে এ কাজগুলো করে থাকেন আপনারা এখান থেকে সরে আসুন আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছে ওটাই আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খেতে রাজি আছি।
যুবকদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো বেকার ভাতা দেব না। বেকার ভাতা দিলে আমাদের দেশে আরও বেকারের সংখ্যা বেড়ে যাবে। আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। তাদের হাতে কাজ তুলে দেব। যাদে কেউ বেকার বসে না থাকে। আপনাদের কুষ্টিয়ায় সুগার মিল বন্ধ, বস্ত্র মিল বন্ধ। এগুলো আমাদের দলের নেতা যখন শিল্প মন্ত্রী ছিল তখন এগুলোর চালুর ব্যবস্থা নেওয়া ছিল। লোকসান থেকে লাভের মুখ দেখেছিল। এখন এই মিলগুলো বন্ধ। আমার আবার চালুর উদ্দ্যোগ নিলে এই এলাকায় বেকার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাচ্ছি যে বাংলাদেশে সব পুরুষ এবং নারীর হাতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দেব, ইনশাআল্লাহ। বিশেষ করে যুবক-যুবতীদের হাতে। তারা যেন যৌবনের শক্তি দিয়ে দেশকে দারুণভাবে গড়তে পারে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
সমাবেশের বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান কুষ্টিয়ার চারটি আসনের জামায়াত মনোনীত প্রর্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন এবং সবাইকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় জেলার নেতৃবৃন্দ ডা. শফিকুর রহমানের হাতে একটি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।










