আজ :

মেডিকেলের কারিকুলাম উন্নত বিশ্বের সঙ্গে মিলিয়ে আধুনিক করা হবে: মন্ত্রী

দেশচিন্তা ডেস্ক: দেশের মেডিকেলের কারিকুলাম উন্নত বিশ্বের সঙ্গে মিলিয়ে আধুনিক করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে মেডিকেলের প্যাথলজি বিভাগে মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, মেডিকেলের কারিকুলাম নিয়ে প্রস্তাবনা রয়েছে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কারিকুলাম তৈরি করা হবে। ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। মেডিকেলের কারিকুলাম আরও আধুনিক ও উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে করা হবে।

আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ উন্নত বিশ্বের চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলাতে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। বিশেষ করে প্যাথলজি বিভাগ, যা চিকিৎসার মূল ভিত্তি, সেখানে তিন বছর আগে একটি সরকারি মাইক্রোস্কোপ নষ্ট হওয়ার পর আর কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

তিনি জানান, হস্তান্তরিত সর্বাধুনিক মডেলের এই আধুনিক মাইক্রোস্কোপটির মাধ্যমে এখন থেকে এক সিটিংয়েই নিখুঁতভাবে ক্যান্সার ডায়াগনোসিস করা সম্ভব হবে, যা চিকিৎসাসেবায় বড় পরিবর্তন আনবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের ডিআই সাপ্লাইয়ের অনিয়ম দূর করতে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি বেসরকারি খাতের মতো চলবে কি না—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটি সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন থাকবে, তবে এর ব্যবস্থাপনা হবে আধুনিক ও করপোরেট ধাঁচের। কোম্পানি ফর্ম করে পরিচালনা করা হবে এবং হাসপাতালটি হবে অলাভজনক। থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ বা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের মডেলে ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি ও আধুনিক পদ্ধতিতে এটি পরিচালিত হবে। আমরা একটি গঠনপ্রণালি তৈরি করে দিয়েছি এবং যন্ত্রপাতি দিয়েছি। এটি উন্নত মানের হাসপাতাল হবে। সরকার এই হাসপাতালের রেট নির্ধারণ করে দেবে, যাতে সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে বিশ্বমানের সেবা পায়। প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয় ঘটানো হবে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দুই মাস ধরে সরকার জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লার্ভা ধ্বংস করার জন্য একটি বিশেষ মেডিকেল ট্যাবলেট আগামী ৭ দিনের মধ্যে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছোট ছোট জমে থাকা পানি, ডাবের খোসা বা টায়ারে এই ট্যাবলেট ব্যবহারে লার্ভা দ্রুত ধ্বংস হবে।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ সতর্কতার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, প্লাজমা লিকেজের কারণে অনেক সময় রোগী মারা যায়। এজন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে একটি ‘ডেইলি ট্রিটমেন্ট প্রটোকল’ তৈরি করে তা সব চিকিৎসকের মোবাইলে ও ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কোনো ডেঙ্গু রোগীর জ্বর ভালো হয়ে গেলেও পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দেওয়া যাবে না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন ও উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোসাররাত সুলতানাসহ প্রমুখ।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

আজকের সর্বশেষ সংবাদ