আজ : মঙ্গলবার ║ ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : মঙ্গলবার ║ ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

সংসদে সময় নির্ধারণে নজিরবিহীন বৈষম্যের অভিযোগ জামায়াতের

দেশচিন্তা ডেস্ক: জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সময় নির্ধারণে নজিরবিহীন বৈষম্য এবং নিজেদের সময় কেটে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী।

রোববার (২৮ জুন) রাতে সংসদে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার (২৯ জুন) এক ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান এবং জোটের প্রবীণ নেতৃবৃন্দ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।

জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, গতকাল সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্য রাখার নির্ধারিত সময় থেকে ৫ মিনিট করে কেটে নেওয়া হয়েছে। গতকাল তাদের মাত্র তিনজন সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছিলেন। অথচ সরকারদলীয় সদস্যদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বক্তব্য দিতে ওঠেন, তখন উনার নির্ধারিত ৪০ মিনিট সময়কে বাড়িয়ে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় কথা বলতে দেওয়া হয়েছে। রাত ১০টা পার হয়ে যাওয়ার পরও সরকারি দলের সদস্যদের নিয়মবহির্ভূতভাবে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া পূর্ববর্তী আলোচনার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

সংসদে বিল উত্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, কার্যপ্রণালী বিধির ৭৭ বিধি লঙ্ঘন করে বিলগুলোকে সংসদে আনা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের বিলগুলো পড়ার এবং আপত্তি উত্থাপন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও কাগজপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হচ্ছে না। স্পিকারের বিশেষ এখতিয়ারকে নিয়ম বানিয়ে প্রতিদিন নতুন বিল এনে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলের একজন সিনিয়র সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে কথা বলতে না দেওয়ার ঘটনাটিকেও ওয়াকআউট করার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

জোটের একজন প্রবীণ সংসদ সদস্য গতকালকের ঘটনাকে দেশের পার্লামেন্টের ইতিহাসে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও উদ্ধতপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সংসদের সময় কঠোরভাবে মেইনটেইন করে বক্তব্য রাখতেন। অথচ গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্ধারিত ৪০ মিনিটের জায়গায় প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট বক্তব্য রেখেছেন। সরকারদলীয় সদস্যদের এমন আচরণের প্রতিবাদেই মূলত ১১ দলীয় জোটের সকল সদস্য সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হন।

তিনি জানান, তারা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে জনগণের কথা বলতে এসেছেন। সংসদে যদি তাদের ন্যায্য সুযোগ না দেওয়া হয়, তবে সেখানে থাকার কোনো অর্থ হয় না। জনগণের অধিকার আদায়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে প্রতিবাদের যতগুলো ভাষা আছে সব অবলম্বন করা হবে এবং তাদের এই সোচ্চার ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

আজকের সর্বশেষ সংবাদ