আজ : সোমবার ║ ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : সোমবার ║ ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ৪ঠা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

শেষ মুহূর্তের গোলে দ.আফ্রিকার হৃদয় ভেঙে ইতিহাস গড়ল কানাডা

দেশচিন্তা ডেস্ক: গোলশূন্য ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, তখনই অধিনায়ক স্তেফেন ইউস্তাকিওর দুর্দান্ত এক গোল। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে পাওয়া সেই গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কানাডা।

লস অ্যাঞ্জেলসে সোমবার (২৯ জুন) নির্ধারিত সময়ের খেলায় দুদলই দারুণ লড়াই করেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চেয়েছিল দুই দল। তবে প্রথম কয়েক মিনিটে আক্রমণগুলো ছিল বেশ এলোমেলো। তৃতীয় মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার ওসউইন অ্যাপোলিস সুযোগ পেলেও প্রথম স্পর্শের ভুলে আক্রমণ নষ্ট হয়ে যায়।

এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় কানাডা। ষষ্ঠ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার তেবোহো মোকোয়েনার দূরপাল্লার শট সহজেই রুখে দেন গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপো। এরপর কর্নার ও সেটপিস থেকে একের পর এক আক্রমণ চালায় কানাডা।

১৭তম মিনিটে স্তেফেন ইউস্তাকিওর কর্নার থেকে জোনাথন ডেভিডের ভলি অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। ২২তম মিনিটে ইউস্তাকিওর ফ্রি-কিক থেকে ডেরেক কর্নেলিয়াস একেবারে ফাঁকায় হেডের সুযোগ পেলেও তা সহজেই ধরে ফেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস।

প্রথমার্ধের শেষদিকে চাপ আরও বাড়ায় কানাডা। ৪৪তম মিনিটে ইউস্তাকিওর কর্নার থেকে মইস বোম্বিতোর শক্তিশালী হেড গোললাইন অতিক্রম করার আগেই অসাধারণ দক্ষতায় ক্লিয়ার করেন খুলিসো মোদিবা। ফিরতি বলে রিচি লারিয়ার শটও বুক দিয়ে ঠেকিয়ে দেন উইলিয়ামস।

যোগ করা সময়ে পেনাল্টির জোরালো দাবি তোলে কানাডা। বক্সের ভেতরে রিচি লারিয়াকে ধাক্কা দেয়া হলেও রেফারি পেনাল্টি দেননি। ভিএআর থেকেও সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে কানাডা। ৬৪তম মিনিটে সিগুরের দারুণ পাসে তানি ওলুওয়াসেয়ি গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও গোললাইন থেকে অসাধারণ ক্লিয়ারেন্স দিয়ে দলকে রক্ষা করেন সিয়াবোঙ্গা এমবোকাজি।

৭৫তম মিনিটে মাঠে নামেন আলফোনসো ডেভিস। তার আগমনের পর কানাডার আক্রমণে আরও গতি আসে। ৭৬তম মিনিটে তার তৈরি সুযোগ থেকে প্রমিস ডেভিডের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। দুই মিনিট পর ডেভিসের আরেকটি পাস থেকে জোনাথন ডেভিডের জোরালো শটও দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন উইলিয়ামস।

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা পুরো ম্যাচে খুব কমই কানাডার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে পেরেছে। ৮৫তম মিনিটে অ্যাপোলিসের দূরপাল্লার শট ভালোভাবে সামাল দেন ক্রেপো।

ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, তখনই আসে নির্ধারক মুহূর্ত। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা দ্বিতীয় মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণ বল ক্লিয়ার করলেও বক্সের বাইরে বল পেয়ে এক টাচ নিয়েই দুর্দান্ত শটে জালের নিচের বাঁ কোণ খুঁজে নেন কানাডার অধিনায়ক স্তেফেন ইউস্তাকিও। উইলিয়ামসের কোনো সুযোগই ছিল না সেই শট ঠেকানোর।

গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু কানাডার রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ইউস্তাকিওর একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে ইতিহাস গড়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে কানাডা। ১৯৮৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা দলটি প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেয় রাউন্ড অব-১৬তে। রেফারির বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন কাডানার ফুটবলার ও সমর্থকরা। অন্যদিকে কান্নায় ভেঙে পড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলার ও সমর্থকরা।

এদিন পরিসংখ্যানেও ছিল কানাডার আধিপত্য। পুরো ম্যাচে তারা ১৪টি শট নেয়, যার ৭টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকা নিতে পারে মাত্র ৬টি শট। শেষ ষোলোতে কানাডার প্রতিপক্ষ হবে মরক্কো অথবা নেদারল্যান্ডস।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

আজকের সর্বশেষ সংবাদ