
দেশচিন্তা ডেস্ক: কাজের ফাঁকে একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার সময়, এই মুহূর্তটাই যেন এখন উপভোগ করছেন ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। কয়েক দিন ধরেই সামাজিক মাধ্যমে থাইল্যান্ড সফরের নানা ঝলক শেয়ার করছেন তিনি। সম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে ভেসে উঠেছে পাতায়ার সমুদ্র, রোদ আর নির্ভার হাসির একগুচ্ছ ছবি।
ছবিগুলোর ক্যাপশনে মিম লিখেছেন, ‘এমন মুহূর্তই জীবনকে সুন্দর করে তোলে।’ সংক্ষিপ্ত এই বাক্যেই যেন ধরা পড়েছে তার ছুটির মেজাজ। অতিরঞ্জন নয়, কেবল উপভোগের সহজ স্বীকারোক্তি।
থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পাতায়ার নীল আকাশ আর সমুদ্রের পটভূমিতে মিমকে দেখা গেছে একেবারে ভিন্ন এক আবহে। কখনো ঢেউয়ের ধারে দাঁড়িয়ে, কখনো দূরের দিগন্তের দিকে তাকিয়ে, ছবিগুলোয় রয়েছে শান্তির ছোঁয়া। ব্যস্ত শুটিং শিডিউল, আলো-ক্যামেরার ঝলকানি থেকে দূরে এই সময়টা যে তার জন্য বিশেষ, তা বোঝা যায় প্রতিটি ফ্রেমে।
শুধু প্রকৃতি নয়, সফরের অংশ হয়ে উঠেছে খাবারের টেবিলও। স্থানীয় নানা পদ উপভোগ করতে দেখা গেছে তাকে। ভ্রমণের আনন্দ যে কেবল ঘোরাঘুরি নয়, স্বাদের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে সেই ইঙ্গিত মিলেছে ছবিগুলোতে।
এই সফরে মিম একা নন। ছবিতে তার পাশে রয়েছেন স্বামী সনি পোদ্দার। দুজনের একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো ছবিতে এনে দিয়েছে ব্যক্তিগত উষ্ণতা। কাজের ব্যস্ততার মাঝেও ব্যক্তিগত সময়কে গুরুত্ব দেওয়ার এই দিকটি ভক্তদের নজর কেড়েছে।
ছবি পোস্টের পরপরই মন্তব্যের ঘরে জমেছে ভক্ত–অনুসারীদের প্রতিক্রিয়া। অনেকে শুভকামনা জানিয়েছেন, কেউ লিখেছেন ভালোবাসার বার্তা, কেউবা প্রশংসা করেছেন তার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির।
ছুটির আমেজের মাঝেও সামনে অপেক্ষা করছে ব্যস্ত সময়। চলতি বছর বিরতি ভেঙে বড় পর্দায় ফিরছেন মিম। ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া পরাণ ও দামাল ছবিতে তার অভিনয় দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। সেখানে তার সহশিল্পী ছিলেন শরিফুল রাজ। তিন বছরের বেশি সময় পর আবারও এই জুটিকে একসঙ্গে দেখা যাবে আলভী আহমেদ পরিচালিত ‘জীবন অপেরা’ ছবিতে। নতুন গল্প, নতুন প্রেক্ষাপট সব মিলিয়ে ছবিটি নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
এ ছাড়া সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘মালিক’ ছবিতেও অভিনয় করেছেন মিম। সেখানে তার সহশিল্পী হিসেবে আছেন আরিফিন শুভ। একাধিক প্রজেক্টে কাজ করলেও প্রতিটি চরিত্রে ভিন্নতা রাখার চেষ্টা করেন তিনি এমনটাই জানিয়েছেন বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে।
বড় পর্দার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির একটি অরিজিনাল ফিল্মেও চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মিম। গ্ল্যামারের প্রচলিত ছক ভেঙে ভিন্নধর্মী চরিত্রে তাকে দেখা যাবে বলে জানা গেছে। এই নতুন মাধ্যম তার অভিনয় জীবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ করতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।
পাতায়ার নীল সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মিম আর ক্যামেরার সামনে চরিত্র হয়ে ওঠা মিম দুই রূপই যেন সমান স্বচ্ছন্দ। একদিকে ব্যক্তিগত জীবনের ছোট ছোট আনন্দ, অন্যদিকে অভিনয়ের বড় পরিসর এই ভারসাম্যই হয়তো তার যাত্রাকে আলাদা করে তোলে।
ছুটির ছবিগুলো তাই কেবল ভ্রমণের অ্যালবাম নয়; বরং এক ব্যস্ত তারকার স্বস্তির নিঃশ্বাস, যিনি খুব শিগগিরই আবারও আলো-ক্যামেরার সামনে ফিরতে প্রস্তুত।


















