
দেশচিন্তা ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটটি হবে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট। এতে কোনো ব্যক্তি বা সরকার নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অনুমোদনের প্রশ্ন রাখা হয়েছে। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের পক্ষে সম্মতি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামে আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আলী রীয়াজ বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলো ভবিষ্যতের জন্য আমাদের ওপর বড় দায়িত্ব অর্পণ করেছে—যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়। শুধু জুলাই-আগস্ট নয়, গত ১৬ বছরে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অসংখ্য পরিবার চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছে। এই আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজকের অবস্থান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে বারবার নির্বাচন ও আন্দোলন হয়েছে, ত্যাগ এসেছে কিন্তু প্রতিশ্রুত রাষ্ট্র গড়তে গিয়ে বারবার ব্যর্থতা দেখা গেছে। এক কদম এগোলে দুই কদম পেছাতে হয়েছে। অথচ দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের বয়স ৩৭ বছরের নিচে। এই তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই এখন প্রধান দায়িত্ব।
জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে এ সনদ প্রণীত হয়েছে। ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দল নয় মাসের বেশি সময় আলোচনার মাধ্যমে দলিলটি তৈরি করেছে। জনগণের অনুমোদন পেলে ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, এই সনদ বাস্তবায়নে তারা বাধ্য থাকবে।
তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতা অস্বাভাবিকভাবে এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। সংবিধান ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় এসব ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও সরকারি কর্মকমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান দলীয় প্রভাবমুক্ত না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন, মেধাভিত্তিক চাকরি ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র সম্ভব নয়।
বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ বলেন, ন্যায়বিচারের জন্য মানুষকে যেন রাজধানীমুখী হতে বাধ্য না হয় সে জন্য উপজেলা পর্যায়ে আদালত ও বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।
সংবিধান সংস্কার বিষয়ে তিনি জানান, কোনো ব্যক্তি জীবনে ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন কঠিন করতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যাতে একক সিদ্ধান্তে সংবিধান পরিবর্তন করা না যায়।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বা ‘বিসমিল্লাহ’ বাদ দেওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই। এসব নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ইমাম ও খতিবদের মত প্রকাশে কোনো আইনগত বাধা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তি ও আলোচনার মাধ্যমেই মতভেদ নিরসন করতে হবে, এটাই গণতন্ত্রের শিক্ষা।










