আজ : শনিবার ║ ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

আজ : শনিবার ║ ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ║১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

জাপা কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ, আহত ভিপি নূরসহ অন্তত ২৫

দেশচিন্তা ডেস্ক: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন। রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে তিনি আহত হন।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ সংঘর্ষ হয়।

একদিকে ভিপি নুরের কর্মীদের সেনাবাহিনী এবং পুলিশ সদস্যরা জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে থেকে ধাওয়া দিয়ে পল্টনের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে সামনে অবস্থান করেছিলেন নুর। এসময় গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা জাতীয় পার্টি অফিসের দিকে ছুটে যান।

সেনাবাহিনী এবং পুলিশের ধাওয়া খেয়ে কর্মীরা কার্যালয়ে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। তখনই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মিলে সবাইকে বেধড়ক লাঠিচার্জ করেন। তাদের ফাঁকে পড়ে নুর আহত হন।

গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরা জানান, নুরের মাথা ফেটে গেছে। তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিকটস্থ কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের নেতৃত্বে বিজয়নগর হয়ে দলীয় মিছিল কাকরাইলের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করলে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার সময় আতঙ্কে পথচারীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ উভয়পক্ষের কর্মীদের নিবৃত করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা গণঅধিকার পরিষদের মিছিলে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, দলের আহত কর্মীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হচ্ছে।

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ গণমাধ্যমকে বলেন, আওয়ামী লীগের দোসরদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে ফেরার পথে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নিয়ে তারা পল্টন জিরো পয়েন্ট থেকে নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ পেছন থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। ওই মুহূর্তে সেখানে ৩০০–৪০০ লোক উপস্থিত ছিল। তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টির পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরাও ছিল বলে ধারণা করছেন তারা।

জাতীয় পার্টির দফতর সম্পাদক মাহমুদ আলম জানান, ‘আজকে জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে পার্টির পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা সভা ছিল। এর মধ্যে নুরের দলের লোকজন মিছিল নিয়ে এসে আমাদের পার্টি অফিসে হামলা চালিয়েছে। আমরাও প্রতিরোধ করেছি। আমাদের ১০-১২ জন লোক আহত হয়েছেন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ