
দেশচিন্তা ডেস্ক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের ১৭ দফা খসড়া আচরণবিধি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ বিধিমালায় প্রার্থী, ভোটার ও কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য ১৭ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থেই এই আচরণবিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত বিধিমালা কার্যকর থাকবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় ঘোষণা করা হয় চাকসুর নির্বাচনি তফসিল। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। খসড়া ভোটার তালিকায় রয়েছেন ২৫ হাজার ৭৫২ জন। যার খসড়া তালিকা আগামী সোমবার প্রকাশ করা হবে। এই খসড়া ভোটার তালিকার বিষয়ে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে ১১ সেপ্টেম্বর।
মনোনয়নপত্র নেওয়া যাবে ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর, জমা দিতে হবে ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। প্রার্থিতা যাচাই বাছাই হবে ১৮ সেপ্টেম্বর, প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ ২১ সেপ্টেম্বর, প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৩ সেপ্টেম্বর এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হবে ২৫ সেপ্টেম্বর।
আচরণবিধি: মনোনয়নপত্র নেওয়া বা জমা দেওয়ার সময় কোনো শোভাযাত্রা করা যাবে না। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ পাঁচজন সমর্থক নিয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ বা জমা দিতে পারবেন। প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট করাতে হবে এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে নিজে উপস্থিত থাকতে হবে।
প্রচারণার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। রাত ৯টার পর মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। প্রচারে কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ, গুজব, চরিত্রহনন, উস্কানি, মানহানিকর মন্তব্য বা ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়, এমন বক্তব্যও ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় কেবল প্রার্থীর নিজস্ব সাদাকালো ছবি ব্যবহার করা যাবে।
প্রচারণায় যানবাহন, মোটরসাইকেল, রিকশা, ঘোড়ার গাড়ি, হাতি কিংবা ব্যান্ডপার্টি ব্যবহার নিষিদ্ধ। ভোটের দিন ভোটার পরিবহনেও কোনো যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না। কেবল কমিশনের অনুমোদিত স্টিকারযুক্ত গাড়ি চলাচল করতে পারবে। সভা, সমাবেশ বা শোভাযাত্রা করতে চাইলে লিখিত অনুমতি নিতে হবে এবং প্রক্টর অফিসকে জানাতে হবে। অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে অনুমতি নিতে হবে। তবে প্রচারের জন্য সাময়িকভাবে প্যান্ডেল বা মঞ্চ স্থাপন করা যাবে।
প্রার্থী বা তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাঁদা, অনুদান, আর্থিক লেনদেন বা ভোটারদের খাদ্য-পানীয় ও উপঢৌকন দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভোটকেরন্দ্র প্রবেশ করতে পারবেন কেবল অনুমোদিত প্রার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, এজেন্ট ও ভোটাররা। ভোট দিয়ে ভোটারদের দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে। ভোটকেন্দ্রের বুথে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে ছবি তোলা যাবে।
আচরণবিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিল, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার কিংবা রাষ্ট্রীয় আইনে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫৯তম সিন্ডিকেট সভায় চাকসুর নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয়। এতে কার্যনির্বাহী কমিটির পদসংখ্যা ১৮ থেকে বেড়ে ২৮ করা হয়, আর সদস্য ও প্রার্থীর বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩০ বছর নির্ধারণ করা হয়। নির্বাহী সদস্যের সংখ্যা ১০ থেকে কমিয়ে পাঁচজন করা হয়েছে।
চাকসুর ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ছয়বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে— ১৯৭০, ১৯৭১, ১৯৭৩, ১৯৮০, ১৯৮৪ ও ১৯৯০ সালে। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর এবার সপ্তমবারের মতো চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।