আজ : মঙ্গলবার ║ ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : মঙ্গলবার ║ ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

আ.লীগের রাজনীতিতে ফেরার স্বপ্ন জনগণ সফল হতে দেবে না: হামিদুর রহমান আযাদ

দেশচিন্তা ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন, ‘হাসিনার বাবা অপরাধী। ক্ষমা চাইলে আপনার বাবাকে ক্ষমা চাইতে বলেন। আমরা ক্ষমা চাইবো কেন? বাংলাদেশের জনগণ এখন ঐক্যবদ্ধ। বিভাজনের রাজনীতি বাংলাদেশে আর হবে না। বিভাজনের রাজনীতি করতে চেষ্টা করবেন না কেউ। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার স্বপ্ন বাংলাদেশের জনগণ সফল হতে দেবে না।’

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান এর দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন ও কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন’-এ তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে দেশে প্রকৃত অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অধিকাংশ সরকার দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জুলাই আন্দোলন ও ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় মানুষ বারবার রাজপথে নেমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে।’

তিনি দাবি করেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করছে তারা গণমানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়, বর্তমান সরকার গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘসূত্রিতার দিকে ঠেলে দিয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনছে।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে জাতিকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে বিভাজনের রাজনীতির কোনো স্থান থাকবে না। ১২ ফেব্রুয়ারির পর থেকে দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে এবং সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। গণরায়কে উপেক্ষা করার কারণেই দেশে অস্থিরতা, হত্যা ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা বেড়েছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিএনপি সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। কয়েকটি কর্পোরেট গণমাধ্যম নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে এবং অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনের সময়ও পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করেছে।’

তিন আরও অভিযোগ করেন, ‘বিএনপি বর্তমানে ১৯৭১ সালের বিভিন্ন ইস্যু নতুন করে সামনে এনে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। অথচ অতীতে বিএনপি নিজেই এমন ব্যক্তিদের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী করেছে, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।’ তিনি বলেন, বিএনপি প্রায় দুই দশকের বেশি সময় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ রাজনীতি করেছে, ১৯৯১ সালে সরকার গঠনে জামায়াতের সমর্থন নিয়েছে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়ও জামায়াতের সমর্থন চেয়েছিল। সে সময় কেন ১৯৭১ সালের চেতনার প্রশ্ন তোলা হয়নি?

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম বলেন, ‘নির্বাচনে দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের উচিত ছিলো জনগণের রায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদকে বাস্তবায়ন করা। জুলাই সনদকে বাস্তবায়ন না করায় বর্তমানে সংকট তৈরি হয়েছে। তারা স্বাধীন বিচার ব্যবস্থাকে বাদ দিয়েছে। যার কারণে মানুষ এখন অপরাধ করতে ভাবছে না। কোনো কিছুই শৃঙ্খলা মেনে হচ্ছে না।’

দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘জুলাই কোনো একদিনের ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ফসল। তার ভাষায়, কয়েক শতাব্দীর ইতিহাসে এটি অন্যতম শক্তিশালী গণপ্রতিবাদ এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী হুংকার। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকবে জুলাই। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং প্রাণ বিসর্জনের প্রস্তুতি বিশ্ব ইতিহাসেও বিরল উদাহরণ।’

জাতীয় সংসদের সদস্য এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘বর্তমান সরকার যেভাবে ক্ষমতায় এসেছে, সে বিষয়ে তাদের দ্বিমত থাকলেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন মেনে নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করছে। গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়া এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানের অর্জন যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যেই তারা সংসদে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে দেশে প্রকৃত অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অধিকাংশ সরকার দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জুলাই আন্দোলন ও ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় মানুষ বারবার রাজপথে নেমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ২ থেকে ৯ জুলাই রাজধানীতে শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় ও স্মৃতিচারণ, ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালন, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও কবর জিয়ারত, ১৬-২৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে ঢাকার দুই মহানগরীর উদ্যোগে আলোচনা সভা, ১৮ থেকে ৩১ জুলাই সারাদেশে শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়, ১ আগস্ট ফ্যাসিবাদবিরোধী বিজয় স্মরণে গণমিছিল এবং ৫ আগস্ট ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে সমাবেশ ও মিছিল।

তাদের প্রধান দাবিসমূহ হলো, জুলাইয়ের খুনিদের এবং মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করা, শহীদ উসমান হাদীর খুনিদের বিচার, গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা।

বক্তারা বক্তব্যের শেষে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান, জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত এবং বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংসদ ও রাজপথ উভয় ক্ষেত্রেই কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

আজকের সর্বশেষ সংবাদ