আজ :

শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

দেশচিন্তা ডেস্ক: রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে মাঠে বসে পড়লেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। কার্লো আনচেলত্তি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে চশমাটা খুলে ফেললেন।

মার্তিনেল্লি অতীতে আর্সেনালের হয়ে অনেক গোল করেছেন। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি ছিল ম্যাচ জেতানো গোল। তবে আজকেরটিই নিশ্চয় এখন পর্যন্ত তার ক্যারিয়ারসেরা। যোগ করা সময়ে তার গোলেই যে জাপানকে বিদায় করে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্বে পৌঁছে গেল ব্রাজিল।

প্রথমার্ধে সানোর গোলে এগিয়ে যায় জাপান। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে কাসেমিরোর দুর্দান্ত সমতায় ফেরে ব্রাজিল। এরপর শেষ দিকে আনচেলত্তির মাস্টারক্লাস। হিউস্টনের দর্শকেরা নেইমারকে মাঠে দেখতে চাইলেও আনচেলত্তি নামান স্ট্রাইকার মার্তিনেল্লিকে।

যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটা অতিরিক্ত সময়ে গড়াচ্ছে, তখনই মার্তিনেল্লির বাজিমাত। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের পাস থেকে বল পেয়ে জাপানের জাল কাঁপান তিনি। এর মধ্য দিয়ে এশিয়া মহাদেশের একমাত্র প্রতিনিধিদের বিদায় নিশ্চিত হয়।

সর্বশেষ ২০০২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জিতেছিল তারা। সেই ম্যাচেরও ফল ছিল ২-১।
শতভাগ ফিট থাকার পরও নেইমার জুনিয়রকে শুরুর একাদশে রাখেননি ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই খেলতে নামে সেলেসাওরা।

হিউস্টনে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল ব্রাজিল। কিন্তু খেলার ধারার বিপরীতে এগিয়ে যায় জাপান। ২৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত এক শটে ব্রাজিল গোলকিপার আলিসন বেকারকে পরাস্ত করেন জাপানের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কাইশু সানো।

এই গোল হজমের দায়টা ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দানিলোর। তার ভুল পাসেই বল পেয়ে জোরালো এক আক্রমণ চালায় জাপান। সেখান থেকেই দলকে এগিয়ে দেন সানো। দেশের জার্সিতে এটিই তার প্রথম গোল।

আজ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-মাথেউস কুনিয়াদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে দেয়নি জাপান। ১৪ মিনিটে কুনিয়ার শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান জাপানের গোলকিপার জিয়ন সুজুকি। কর্নার থেকেই বল পেয়ে বাঁকানো শট নিয়েছিলেন ব্রুনো গিমারায়েস। কিন্তু তার শট দূরের পোস্ট দিয়ে চলে যায়।

১৫ মিনিট জুনিয়া ইতোকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন কাসেমিরো। এবারের বিশ্বকাপে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেখলেন এই মিডফিল্ডার।

হাইড্রেশন ব্রেকের (পানি পানের বিরতি) আগে আরো কয়েকটি গোছালো আক্রমণ করেছিল ব্রাজিল। কিন্তু জাপানের জমাট রক্ষণ সব কটি সুযোগ নস্যাৎ করে দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের জন্য হন্যে হয়ে ওঠে ব্রাজিল। আক্রমণভাগকে আরো শক্তিশালী করতে কোচ কার্লো আনচেলত্তি লুকাস পাকেতাকে তুলে নিয়ে তরুণ এনদ্রিককে নামান। তাতেই গতি বাড়ে ব্রাজিলের।

সুফল পায় ৫৬ মিনিটে। গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়ায়েসের পাস থেকে বক্সের ডান পাশ থেকে লাফিয়ে উঠে হেডে গোল করেন কাসেমিরো।

সমতায় ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যে এগিয়েও যেতে পারত ব্রাজিল। কিন্তু ভিনিসিয়ুসের শট বারে লেগে ফিরলে হতাশ হতে হয়। তবে শেষ দিকে আর ভাগ্য সহায় হয়নি জাপানের।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

আজকের সর্বশেষ সংবাদ