
দেশচিন্তা ডেস্ক: সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নিরাপত্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রটেকশনের জন্য এসএসএফ, পিজিআরসহ ছয় মাসের একটা বিধান রয়েছে। ছয় মাসের প্রটেকশনের সুযোগ তিনি পাবেন। এ ছাড়া পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার পক্ষ থেকে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনানুগভাবে তিনি যা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে সবই পাবেন।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এনসিপি এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতারের কথা বলা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে তার ইনসিকিউরিটি আছে কিনা? সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আইন অনুযায়ী যেসব সুযোগ রয়েছে সেগুলো অবশ্যই পাবেন। তার প্রটেকশনের জন্য এসএসএফ, পিজিআরসহ ছয় মাসের একটা বিধান আছে। ছয় মাসের প্রটেকশনের সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া পুলিশ এবং আমাদের অন্যান্য সংস্থার পক্ষ থেকে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিরোধী পক্ষ সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেফতার কেন চায় এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, বিরোধী পক্ষকে জিজ্ঞেস করেন কেন চায়।
এনসিপি নেতারা দীর্ঘদিন ধরে সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। গত দুদিন ধরে তারা জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছেন এবং তারা বিক্ষোভ মিছিল করছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতারে আইনি সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন শারীরিক কারণে। তার পদত্যাগপত্রে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। তিনি পদত্যাগ করতে চাইলে করতে পারেন এবং সাংবিধানিকভাবে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করার বিধান রয়েছে। তিনি (স্পিকার) অ্যাক্সেপ্ট করেছেন। এখন অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার স্পিকার গ্রহণ করেছেন। এগুলো সবই আইনি কথা।
তিনি আরও বলেন, এখন যারা তার (সাবেক রাষ্ট্রপতি) বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের সেই অধিকার আছে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে কী প্রত্যাশা করি? রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যান্যরা তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছে। সেটা করতেই পারে। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য ওখানে নাই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি স্বৈরাচারী শাসনের শেষ দিকে, ইন্টেরিম গভর্মেন্টের পুরোটা এবং বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের এই প্রায় ৫-৬ মাস সময়ে সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিধি-বিধান অনুযায়ী করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি। সেই সময়টায় সংবিধান অনুসারে তিনি (সাবেক রাষ্ট্রপতি) প্রিভিলেজড এবং ইমিউনিটি আছে তার, ফৌজদারি অপরাধ ইত্যাদি বিষয়ে কোনো আদালতে মামলা করা যায় না। এর বহির্ভূত কোনো সময়ে যদি কোনো বক্তব্য কেউ দিয়ে থাকে, সেটা তাদের স্বাধীনতা আছে, দিতে পারে। তবে আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বিষয় এখানে দেখিনি।
শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতির কথোপকথনের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা কোনো তথ্য পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা পত্রিকায় দেখেছি। কোনো পত্রিকা এরকম একটা নিউজ দিলে, কী তথ্যপ্রমাণ আছে সেসব তাকেই জিজ্ঞেস করতে হবে। আমাদের কাছে সেই রকম কোনো তথ্য নেই। আর কথা বলার জন্য লন্ডন যেতে হয় নাকি? আজকালকার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে হয় না, এটা আমার কাছে অলীক মনে হয়। কথা বলতে চাইলে তো এখান থেকেও বলা যায়।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তিন বছর তিন মাস রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এর আগে দুদক ও ব্যাংকের প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। তখনকার ঘটনায় কোনো বিচার হবে কিনা জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সেই সময় দায়িত্ব পালনকালে তার ব্যাপারে কোনো অভিযোগ কি কেউ দিয়েছিল? দিয়ে থাকলে সেটা তখনকার সময়ে যদি কোনো কিছুর রেকর্ড থাকে সেটা তখনকার বিষয়, বিধি-বিধান অনুসারে চলবে, আইন অনুসারে চলবে।











