
দেশচিন্তা ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরীর ৩৫ নং ওয়ার্ডের বাস্তুহারা এলাকার সাধারণ মানুষ গত এক মাস ধরে অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছে| সামান্য বৃষ্টিতেই নোমান কলেজ বাস্তুহারা সড়কটি তলিয়ে থাকত পানির নিচে| কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, বৃষ্টি শেষ হওয়ার তিন দিন পরও যখন রাস্তা থেকে পানি নামছিল না, তখন টনক নড়ল স্থানীয় নেতাকর্মীদের|
অনুসন্ধানে নেমে তারা দেখতে পান এক নির্মম বাস্তবতা! কিছু দুষ্কৃতিকারী পানি চলাচলের স্বাভাবিক নালাটিতে বালু এবং সিমেন্টের বস্তা ফেলে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে|
এই ঘটনা দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন স্থানীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নেতাকর্মীরা| তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেন চট্টগ্রাম মহানগর কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ এইচ এম আলমগীর চৌধুরীকে| খবর পেয়ে তিনি নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন যেকোনো মূল্যে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে নালাটি পরিষ্কার করতে| নেতার আশ্বাস পেয়ে কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নালা থেকে বালু ও সিমেন্টের বস্তা অপসারণ করেন এবং সাথে সাথেই জমে থাকা পানি নামতে শুরু করে|
তবে দুর্ভোগ এখানেই শেষ নয়| বস্তা সরানোর পরও দেখা যায় পানির গতি স্বাভাবিক হচ্ছে না| আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা কর্ণফুলী নদী থেকে বেআইনীভাবে বালু উত্তোলনের জন্য একটি বিশাল পাইপ নালার ওপর দিয়ে নিয়ে যায়|
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থে এই অবৈধ ড্রেজার ও পাইপ বসানোর কারণে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী|
আজ ৩৫ নং ওয়ার্ড কৃষক দলের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে মহানগর কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ এইচ এম আলমগীর চৌধুরী অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে এলাকাবাসী এই অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন| এ সময় সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে এ এইচ এম আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘‘আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই| তবে আমি প্রশাসন ও আমাদের শীর্ষ নেতাদের সামনে এই অসহায় মানুষের ওপর হওয়া জুলুমের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি| অতি লোভী ও স্বৈরাচারের দোসররা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে পানিবন্দী করে রেখেছে| তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়ে বিএনপি এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের বদনাম করা|”
তিনি আরও বলেন, এই চক্রান্তের কথা তারা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনের এমপি আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান সাহেবের দৃষ্টিগোচর করেছেন| একই সাথে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র মহোদয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, যেন অতি দ্রুত এই অবৈধ বালুর পাইপ অপসারণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়|











