
দেশচিন্তা ডেস্ক: পেকুয়া প্রতিনিধি, প্রিয় চট্টগ্রাম: বছরের পর বছর সংস্কারহীন স্লুইসগেট, অকার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নদী-খালের নাব্যতা সংকট এবং দুর্বল বেড়িবাঁধের কারণে বারবার বন্যায় বিপর্যস্ত পেকুয়ার মানুষকে স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, স্লুইসগেটের সব ধরনের ইজারা ব্যবস্থা বাতিল করা হবে। পাশাপাশি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, খাল-নদী পুনঃখনন, আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে সরকার সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দিনব্যাপী কক্সবাজারের পেকুয়ার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন, শেষে তিনি এ ঘোষণা দেন।
পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা এলাকায় ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, পেকুয়ার মানুষকে প্রতিবছর বন্যার দুর্ভোগে ফেলতে সরকার চায় না। সব বেড়িবাঁধ টেকসইভাবে নির্মাণ করা হবে। সংস্কারবিহীন স্লুইসগেটগুলো আধুনিকায়ন করা হবে। প্রয়োজন হলে নতুন স্লুইসগেট নির্মাণ করা হবে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে এবং লবণাক্ত পানির অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশও রোধ করা হবে।
তার ভাষ্য, স্লুইসগেটের সব ধরনের লিজ বা ইজারা ব্যবস্থা বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে দখল হয়ে যাওয়া খাল-নদী পুনঃখনন এবং দখলমুক্ত করতে বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, সরকার শুধু ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের পাশাপাশি কৃষক, মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী, লবণচাষি, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, কালভার্ট ও অন্যান্য অবকাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বারবাকিয়া ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি বলেছেন, ত্রাণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কার্ড বড় বিষয় নয়। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোই আমাদের লক্ষ্য।
শিলখালী ইউনিয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত এ জনপদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। টৈটং ইউনিয়নে পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারের পুনর্বাসন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ সময় দীর্ঘদিনের দাবির ছনুয়া-রাজাখালী সেতু নির্মাণের বিষয়েও আশ্বাস দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে পেকুয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হয়।
দিনব্যাপী সফরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবাকিয়া, শিলখালী, টৈটং, মগনামা, রাজাখালী ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।
এ ছাড়া আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ এবং তাদের হাতে গৃহস্থালি উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
বিকেলে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা, ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ এবং দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন স্লুইসগেট পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার ও স্থায়ী অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন।












