আজ : মঙ্গলবার ║ ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : মঙ্গলবার ║ ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ১৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

জনগণ ঘুমিয়ে থাকার সময়ে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে : ডা. শফিকুর রহমান

দেশচিন্তা ডেস্ক: পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বাড়িয়ে জনগণের উপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার ফাহিমার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গত মাসে ১২ শতাংশ দাম বাড়ানো হলো। একমাসের ব্যবধানে আবারো দাম বাড়ানো হলো। উপরন্তু জনগণ যখন ঘুমিয়ে, তখন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এটা ভাল কাজ না, ভাল কাজ হলে দিনের বেলা করতেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিশু রামিশার ন্যায় ফাহিমার বিচারও ১৫ দিনের মধ্যে হবে, প্রধানমন্ত্রী এমন ঘোষণা দেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। তিনি বলেন, ফাহিমার বিচারও ১৫ দিনের মধ্যে হওয়ার ঘোষণা দিলে এরজন্য তিনি অবশ্যই দোয়া পাবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর আনুগত্যকরণ অনুসরণ করব। আর এখানকার মন্ত্রী (সিলেট-১ আসন) তিনিও ঘোষণা দেবেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ফাহিমারও বিচার হবে।

তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, দেশ ভাল নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে হতাশার কথা আছে। ৭ তারিখ সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। সেখানে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলব। আগাম কোনো কিছু বলছি না। শুধু একটা কথা বলব-দেশ ভাল নেই। তবে, এই স্রোত যত ভয়াবহ হোক, আমরা সেই স্রোতের বিরুদ্ধে লড়ে যাব।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা রামিসার বাবাকে বলেছিল, তিনি বিচার চান কিনা? তিনি বলেছিলেন, কার কাছে বিচার চাইব। তিনি অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন, কেননা বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর মানুষের আস্থা নেই। আস্থা থাকলে তিনি একথা বলতেন না। আমরা সেই বাবাকেও কথা দিয়ে এসেছি, আপনার পাশে আছি, থাকব। বাংলাদেশের মানুষ যেখানেই মজলুম হবে, সেখানেই আমরা হাজির হব। আমরা মানে জামায়াত একবুক দরদ নিয়ে হাজির হব। আমরা দেখব না, মজলুম কোন দলের বা ধর্মের। আমরা সেটা দেখব না।

তিনি আরও বলেন, আমরা লোক দেখানো কিছুই করতে চাই না। কেবল বিপদে তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমরা বিপদ দূর করতে পারব না, তবে কষ্টের ভার নিতে পারব।এলাকাবাসীর কাছে ফাহিমার পরিবারকে আমানত হিসেবে রেখে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আইনগত দিক থেকে আদালতে তাদের পক্ষে আমরা সর্বোচ্চটা করব। এটা একটি অসম লড়াই। এই অসম লড়াইয়ে এলাকাবাসী তাদের পক্ষ নিলে তারা জিতবে, ইনশাহআল্লাহ। আমরা চাই, আর কোনো মায়ের যেন চোখের পানি না ফেলতে হয়।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা নিয়ে প্রথমে আমি কথা বলেছি, টাইমলাইনে গিয়ে খুঁজলে পাবেন। আমি স্পষ্টই বলেছি, এটা জনগণের ওপর সুবিচার করা হয়নি। গত মাসে ১২ শতাংশ দাম বাড়ানো হলো। একমাসের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ানো হল। আর যদি করতেই হয়, সামনে বাজেট অধিবেশন ছিল, সেটা নিয়ে বসে আলোচনা করা যেতো, নয়তো তেলের ক্রাইসিস মোকাবেলায় কমিটি ছিল, আলোচনা করা যেতো। সরকারও বাধ্য হতো, ন্যায্যতার ভিত্তিতে একটা সিদ্ধান্ত হতো। যুৎসই না হলে আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতাম। বরং তড়িঘড়ি করে পাশ কাটিয়ে এই কাজ করেছেন, এটা জনগণের সাথে প্রতারণা। এটা জনগণের নির্বাচিত পার্লামেন্টের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। আলাপ করে বললে জনগণও বুঝতো কতটুকু করা দরকার।

হাম উপসর্গে শিশু মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের বয়স ৩ মাস হয়েছে, তারা কী করছে। অন্তর্বর্তী সরকার টিকা কিনে না থাকলে, এর ব্যাখ্যা ওরা দেবে। উনারা ৩ মাসে কি করেছেন, তার ব্যাখ্যাও দিক। উনারাতো হঠাৎ করে ঘুম থেকে ওঠেননি। উনারা দায়িত্বে আসার আগেই হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। এর মাঝেই কাভারেজ দেওয়া দরকার ছিল, সেটা যদি দিয়ে থাকেন, আলহামদুলিল্লাহ।

তিনি বলেন, অনেক বাচ্চা হামের টিকা সবই নিয়েছে, তার হাম হলেও হালকা গ্রেডে হচ্ছে। কিন্তু যারা টিকা পায়নি, তারা হাম হওয়ার সাথে সাথেই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছে। দায় কার আছে, এটাও সংসদে জানতে চাইব।

তেলের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে তেলের কোনো মজুতের অভাব নাই। আগে থেকে প্রতিদিন বিক্রি হয় বেশি। এরপর আমরা রাস্তায় নেমে দোকানিদের জিজ্ঞেস করলাম-চিত্র পেলাম সম্পূর্ণ ভিন্ন। সংসদে যখন চেপে ধরলাম, তখন তারা স্বীকার করতে বাধ্য হলেন, যে তেল সংকট আছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মুখে মুখে সব, আসলে কিছুই নেই। সব সোনা আর ডায়মন্ডের মোহর ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মূলত যা বাস্তব আছে, তাই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। তখন সবাই মিলে আমরা সমাধানের পথ খুঁজব, কীভাবে সমস্যা থেকে উত্তরণ হওয়া যায়। দেশ এবং জাতির পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব সরকারের একার নয়। সরকারের প্রধান দায়িত্ব, পাশাপাশি বিরোধী দলের তথা আমাদেরও দায়িত্ব আছে। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে চাই। কেউ আমাদের সেই অধিকার না দিলেও আমরা আদায় করে ছাড়ব।

এর আগে ডাক্তার শফিকুর রহমান শিশু ফাহিমার বাবা-মায়ের সাথে দেখা করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। এসময় তার সঙ্গে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাওলানা জুবায়ের আহমদসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ