আজ : বুধবার ║ ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : বুধবার ║ ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ২০শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

চকবাজারের ফুটপাত: দখলমুক্ত করার জোরালো আহ্বান

মোহাম্মদ ইউসুফ কবির

চকসুপার মার্কেট সংলগ্ন এলাকা, যা চকবাজারের ব্যস্ততম স্থাপনা এবং রাস্তাঘাটের অন্যতম কেন্দ্র, সেখানে ফুটপাতের অব্যবস্থাপনা এবং দোকানিদের অনিয়ন্ত্রিত দখল এক দীর্ঘ দিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি দেখা গেছে, জুতা মেরামতের মিস্ত্রির ঠিক মুখোমুখি একটি ফলের দোকান ফুটপাতের প্রায় পুরো অংশ এবং রাস্তায় অংশ জুড়ে দখল নিয়েছে। এর ফলে পথচারী ও অটোরিকশা চলাচলে অসুবিধা তৈরি হয়েছে এবং স্থানটি জনজীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এর আগে অন্যান্য অস্থায়ী দোকান থাকলেও ফুটপাত অর্ধেক খালি থাকত, যা পথচারীদের জন্য কিছুটা নিরাপদ ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ফুটপাত প্রায় পুরোপুরি দখল এবং রাস্তায় অংশ বিস্তার পাওয়ায় শুধু মানুষ চলাচলের ক্ষেত্রে নয়, যানবাহনের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই দখল একরকম প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়, বা স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর তদারকির অভাবে দীর্ঘায়িত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

ফুটপাত দখল কেবল স্থানীয় বাণিজ্যিক সমস্যা নয়; এটি সামাজিক, আইনগত এবং নিরাপত্তাজনিত একটি সংকটও। পথচারী, প্রতিবেশী ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ এ সমস্যার সরাসরি ভুক্তভোগী। শিশু, বৃদ্ধ এবং নারীদের জন্য বিশেষ করে এই রাস্তায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হয়েছে—যারা নিয়ম মেনে ফুটপাতে বা দোকানের ভেতরে ব্যবসা চালাতে চায়, তাদের কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), চকবাজার থানা, সিএমপি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ অপরিহার্য। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে, এটি স্থানীয় প্রশাসনের অক্ষমতার প্রতীক হয়ে যাবে। নিয়মিত নজরদারি, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নিয়মিত পুনঃমূল্যায়ন ছাড়া এই সমস্যা দূর হবে না।

এক্ষেত্রে কিছু কার্যকর প্রস্তাবনা হতে পারে—

১. ফুটপাত পুনঃউচ্ছেদ অভিযান: অবৈধভাবে দখল করা দোকানগুলি সরানো এবং নিয়মিত তদারকি করা।

২. প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধি: চসিক, থানার পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় করে নিয়মিত নজরদারি।

৩. প্রভাবশালী ও দায়িত্বজ্ঞানহীনদের জন্য কঠোর পদক্ষেপ: স্থানীয় প্রভাবশালীদের দ্বারা প্রশাসনিক শিথিলতা রোধ করা।

৪. জনসচেতনতা: পথচারী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সচেতন করা যাতে ফুটপাত ব্যবহারের ন্যায্য অধিকার বজায় থাকে।

ফুটপাত দখল শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়; এটি নাগরিক জীবনের মৌলিক অধিকার হরণের দিকেও ইঙ্গিত দেয়। একটি শহরের রাস্তাঘাট কেবল চলাচলের জন্য নয়, এটি শহরের শৃঙ্খলা, সামাজিক নিয়ম এবং নাগরিক নিরাপত্তার প্রতীক। চকবাজারের মতো ব্যস্ত স্থানে ফুটপাত দখলমুক্ত করা মানে নাগরিকদের অধিকার পুনঃস্থাপন করা।

শেষ পর্যন্ত, প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ফটাফট অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নিয়মিত তদারকি এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে চকবাজারের ফুটপাতকে দখলমুক্ত রাখা সম্ভব। একটি সুস্থ, নিরাপদ এবং স্বচ্ছ নগর জীবনের জন্য এটি অপরিহার্য।

চকবাজারের পথচারী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ নাগরিকরা প্রত্যাশা করে যে—ফুটপাত যেন অবৈধ দখলমুক্ত হয়, চলাচল নিরাপদ হয় এবং স্থানটি তার প্রাকৃতিক ও সামাজিক উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়। প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ ছাড়া এটি শুধুমাত্র স্বপ্নই থেকে যাবে।

এক্ষেত্রে আমরা আশা করি—চসিক, থানার পুলিশ এবং সিএমপি যৌথভাবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান আনবে এবং চকবাজারের ফুটপাতকে পুনরায় পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করবে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ