
দেশচিন্তা ডেস্ক: নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক-কর্মচারীদের চলমান কর্মবিরতির প্রতি সংহতি ও সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে সিপিবি নেতারা দেশপ্রেমিক সকল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন ও সর্বস্তরের জনগণকে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে জাতীয় সম্পদ নিয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর সিনেমা প্যালেস মোড়ে এ সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা সিপিবির সভাপতি অধ্যাপক অশোক সাহার সভাপতিত্বে ও সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য প্রদীপ ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংহতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড মৃণাল চৌধুরী, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য উত্তম চৌধুরী ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক নুরচ্ছাফা ভূঁইয়া।
সমাবেশে সিপিবি নেতারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার যখন চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে, তখন সিপিবিসহ বামপন্থীরা রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করেছিল। আওয়ামী লীগের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও একইপথে হেঁটে যখন জাতীয় সম্পদ নিয়ে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র শুরু করল, তখনও আমরা রাজপথে নেমেছি। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত রোডমার্চ হয়েছে। বন্দরের
শ্রমিক-কর্মচারীরা মিছিল-সমাবেশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ইজারার বিরোধিতার যৌক্তিকতা বারবার সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত না করে লালদিয়ার চর, বে-টার্মিনাল ও পানগাঁও বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সরকার শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সিপিবি নেতারা আরও বলেন, আজ বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা ফুঁসে উঠেছে, বন্দর অচল হয়ে গেছে, এর দায় সরকার, বন্দর কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। এরপরও সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সমাধানের পথে না হেঁটে শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর স্টিমরোলার চালানো শুরু করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশে আছি। একইসঙ্গে সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সর্বস্তরের জনতাকে রাজপথে নেমে আমরা দেশবিরোধী আত্মঘাতী চক্রান্ত প্রতিহত করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা সরকারকে বলতে চাই, একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আপনারা সুন্দরভাবে বিদায় নেন। চট্টগ্রাম বন্দরসহ জাতীয় সম্পদ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার জনগণ আপনাদের দেয়নি।














