আজ : মঙ্গলবার ║ ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : মঙ্গলবার ║ ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ১৫ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর শহীদের রক্তে লেখা: আলী রীয়াজ

দেশচিন্তা ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদার) আলী রিয়াজ বলেছেন, আপনাদের সামনে যে কাগজের বই জুলাই জাতীয় সনদ হিসেবে মুদ্রিত অবস্থায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো কালো কালিতে ছাপা। কিন্তু এর প্রত্যেকটা অক্ষর রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছে। শহীদের রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছে এই জুলাই জাতীয় সনদ।

তিনি বলেন, আমি যখন জুলাই জাতীয় সনদের বইটা খুলি, আমি সন্তানহারা মায়ের আর্তনাদ শুনতে পাই। যে বোন এখনো অপেক্ষায় আছে তার ভাই ফিরবেন কি না; আমি তার হাহাকার শুনতে পাই। সেই ঋণের স্বীকৃতির জন্য এই জুলাই সনদ।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণভোট নিয়ে প্রচার-প্রচারণা সংক্রান্ত মতামতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে বলেন, ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আহমেদ আব্দুল থেকে শুরু করে ৩৮ বছর বয়সী সোহেল রানার মতো অসংখ্য মানুষ রাষ্ট্রক্ষমতা বা রাজনৈতিক পদ পাওয়ার আশায় নয়, বরং একটি ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন। তারা কেউ রাষ্ট্রপতি হতে চাননি, প্রধানমন্ত্রী হতে চাননি, এমনকি সরকারি চাকরিও চাননি, তারা চেয়েছিলেন নাগরিক হিসেবে ন্যূনতম অধিকার।

আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ সেই দায়বদ্ধতারই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। রাজনৈতিক দল, কমিশন, সিভিল সোসাইটি ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে এই সনদ তৈরি হয়েছে। এটি এমন একটি দলিল, যার প্রতিটি অক্ষরের সঙ্গে শহীদ পরিবারের কান্না, গুম হওয়া স্বজনের অপেক্ষা এবং আহতদের যন্ত্রণার ইতিহাস জড়িয়ে আছে।

আলোচনায় তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের অন্যতম লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে এক ব্যক্তির শাসনব্যবস্থা যেন আর কখনো ফিরে না আসে। নির্বাচন ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, জরুরি অবস্থা জারি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা-এসব বিষয়ে কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাব এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া, প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিকীকরণ এবং জবাবদিহিহীনতার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ তার বিপরীতে একটি নতুন রাষ্ট্রদর্শনের কথা বলে।

আলী রীয়াজ বলেন, তরুণদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই সুযোগ অবহেলা করলে চলবে না। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি বাংলাদেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখা, যেখানে নাগরিককে অধিকার আদায়ের জন্য আর রক্ত দিতে হবে না।

অনুষ্ঠানে আলী রীয়াজ সবাইকে জুলাই সনদের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এস এম এ ফায়েজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, জুলাইয়ে আহত ব্যক্তিরাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ