
দেশচিন্তা ডেস্ক: বই আর আলোচনার মেলবন্ধনেই প্রাণ খুঁজে পায় একেকটি সাহিত্য আসর। ঠিক তেমনি এক অনবদ্য বিকেলের আয়োজন হয়ে উঠেছিল চাঁদপুর সাহিত্য মঞ্চের ‘পাঠ-পর্যালোচনা’।
শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুরের মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠান যেন ছিল সাহিত্যপ্রেমী মানুষদের এক রঙিন মিলনমেলা।
এ বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় চাঁদপুরের লেখকদের প্রকাশিত বারোটি বইকে ঘিরে সাজানো হয় দুই পর্বের আলোচনা। প্রতিটি আলোচনায় উঠে আসে বইয়ের শিল্পরূপ, ভাবনার ভাঁজ আর সৃষ্টির নেপথ্য অন্তর্গাথা।
প্রথম পর্বে ছয়টি গ্রন্থকে ঘিরে রচিত হয় মতামতের অঙ্গন। কবি ইলিয়াস ফারুকীর ‘জল তিতির’ নিয়ে কথা বলেন লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক কবি ও সংগঠক গাজী গিয়াস উদ্দিন। নুরুন্নাহার মুন্নির ‘গণতন্ত্রে পুরুষতন্ত্র’ বিশ্লেষণ করেন কবি ও সাংবাদিক মামুন রশীদ।
তরুণ কবি নিঝুম খানের কণ্ঠে ফুটে ওঠে কবি ও অনুবাদক মাইনুল ইসলাম মানিকের ‘কুরুক্ষেত্রের ঘুড়ি’র বিশ্লেষণ। কবি সঞ্জয় দেওয়ানের ‘জলের ক্যালিগ্রাফি’ নিয়ে মুগ্ধতার সঙ্গে কথা বলেন দন্ত্যন ইসলাম।
ঢাকা থেকে আগত সাংবাদিক, কলামিস্ট ও আবৃত্তিশিল্পী আহমেদ শাহেদ পাঠ-পর্যালোচনা করেন কবি কবির হোসেন মিজির ‘লাল রঙের নামতা’ নিয়ে। আর কবি ম. নূরে আলম পাটওয়ারী বিশ্লেষণ করেন জাহিদ নয়নের ‘আততায়ী অন্ধকার’।
এ পর্বের সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর সাহিত্য মঞ্চের সভাপতি আশিক বিন রহিম।
দ্বিতীয় পর্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয় আরো ছয়টি গ্রন্থ। চাঁদপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইদুজ্জামান তুলে ধরেন সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুর-এর মহাপরিচালক ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশের ‘চাঁদপুরের সংস্কৃতি লোককথা ও অন্যান্য’।
লেখক ও আবৃত্তিশিল্পী রাজিব কুমার দাস আলোচনা করেন গাজী মুনছুর আজিজের ভ্রমণ-অন্বেষার বই ‘পাখির খোঁজে বাংলাজুড়ে’। লেখক নুরুল ইসলাম ফরহাদ বলেন মুহাম্মদ ফরিদ হাসানের ‘চিত্রকলার জগৎ’ নিয়ে।
এছাড়া আবদুল গনি পাঠ-পর্যালোচনা করেন সাংবাদিক মিজানুর রহমান রানার লেখা ‘এই জনমে’; মনিরুজ্জামান বাবলু কথা বলেন দেওয়ান মাসুদুর রহমানের ‘কৃষ্ণচূড়া মোড়’ নিয়ে; আর কবি সুমন কুমার দত্ত ব্যাখ্যা করেন আরিফুল ইসলাম শান্তের ‘মৌন বৃক্ষের রাত্রিদিন’।
এই পর্বের সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের বিশিষ্ট সাহিত্য গবেষক, সাহিত্য মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান কমিটির উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ্ হিল কাফী।
আলোচকরা মত দেন- চাঁদপুরের লেখকদের সৃষ্টিশীল সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করছে। বইমেলায় প্রতিবছর অসংখ্য বই প্রকাশিত হলেও, নির্বাচিত বই নিয়ে এ রকম আলোচনাসভা লেখক-পাঠকের মাঝে এক সেতুবন্ধন তৈরি করে। বই কেবল লেখা নয়, পাঠকের প্রাণে ঢুকে পড়ার পথ খুঁজে নেয় এমন আয়োজনেই।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান ডা. মাসুদ হাসান। সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সাহিত্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক সাদ আল-আমিন।
পুরো অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনটির যুগ্ম সম্পাদক সামিয়া আলম ও সদস্য সামিরা মেহনাজ নুসরাত। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অনুষ্ঠান আয়োজন উপ-কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ হানিফ ও সদস্য সচিব ইয়াসিন দেওয়ান। চাঁদপুরের এই বিকেল তাই শুধু পাঠ-পর্যালোচনা ছিল না- ছিল শব্দ, চিন্তা আর অনুভবের উৎসব।