
দেশচিন্তা ডেস্ক: প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির দামপাড়াস্থ ভবন প্রাঙ্গণে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিবিএ প্রোগ্রামের ৪৪তম ব্যাচের ফেয়ারওয়েল প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
০১ আগস্ট ২০২৬, শনিবার, সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে অনলাইনের মাধ্যমে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাননীয় ট্রেজারার প্রফেসর ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী ও মার্কেটিং ডিসিপ্লিনের কো-অর্ডিনেটর সহযোগী অধ্যাপক জনাব সুলতানা রাজিয়া চৌধুরী। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সহযোগী ডিন প্রফেসর এম. মঈনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির অনলাইনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তি কোনো যাত্রার শেষ নয়; বরং এটি নতুন সম্ভাবনা, নতুন দায়িত্ব এবং নতুন স্বপ্নের সূচনা। ব্যবসায় প্রশাসনের শিক্ষার্থীরা কেবল দক্ষ পেশাজীবীই নয়, বরং নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলিতে সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ সক্ষমতা এবং আজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সততা, দক্ষতা ও মেধার স্বাক্ষর রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও সমুন্নত করে, সেই কামনা করছি। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে গেলে সফলতা অবশ্যই ধরা দেবে।
তিনি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ৪ বছর ধরে শিক্ষা প্রদান ও জ্ঞানসমৃদ্ধ করার জন্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদায়ী শিক্ষার্থীরা প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় ট্রেজারার প্রফেসর ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার বলেন, একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত পরিচয় কেবল তার একাডেমিক ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়; তার সততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্মদক্ষতাই তাকে প্রকৃত অর্থে সফল করে তোলে। অর্জিত জ্ঞানকে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজে লাগিয়ে তোমরা ভবিষ্যতের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সুনাম বজায় রাখেবে ও বৃদ্ধি করবে—এই প্রত্যাশা করছি।
বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত শৃঙ্খলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতার শিক্ষা কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যেখানেই থাকো, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণ ও নৈতিক মূল্যবোধের পরিচয় বহন করবে।
বিশেষ অতিথি মার্কেটিং ডিসিপ্লিনের কো-অর্ডিনেটর সহযোগী অধ্যাপক জনাব সুলতানা রাজিয়া চৌধুরী বলেন, আজকে তোমাদের বিদায় হলেও আসলে আজকে থেকে তোমাদের অন্য অধ্যায়ের সূচনা। এই অধ্যায়ে রয়েছে তোমাদের আরও উচ্চতর শিক্ষা ও ক্যারিয়ার গঠন ইত্যাদি। এই অধ্যায়ে তোমাদের সাফল্য অর্জন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সহযোগী ডিন প্রফেসর এম. মঈনুল হক বলেন, আজকের এই বিদায় আনন্দ ও আবেগের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের নানা স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে তোমরা নতুন জীবনের পথে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছ। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে নিজেদের যোগ্যতার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাবে—এই প্রত্যাশা করছি। তোমাদের সাফল্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাহমিনা রেজা। বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবরার, ভূমিকা বিশ্বাস এবং সৈয়দা নওশিন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক অমল ভূষণ নাগ, ফিন্যান্স ডিসিপ্লিনের কো-অর্ডিনেটর জনাব রাজীব দত্ত, অ্যাকাউন্টিং ডিসিপ্লিনের কো-অর্ডিনেটর ড. আহসান উদ্দিন, এইচআরএম ডিসিপ্লিনের কো-অর্ডিনেটর জনাব রহিমা বেগম, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যবৃন্দ, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

















