আজ : ║ ║║

চীনা রোবট আমদানি নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

দেশচিন্তা ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন মডেলের মানবসদৃশ (হিউম্যানয়েড) ও চার পায়ের (কোয়াড্রুপেড) রোবট আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই নিষেধাজ্ঞা মুলত চীনা রোবট প্রস্ততকারী কোম্পানিগুলোর ওপরই দেওয়া হয়েছে, কারণ বৈশ্বিক হিউম্যানয়েড রোবট বাজারের প্রায় ৮৫ শতাংশই চীনের দখলে।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নেটওয়ার্কযুক্ত এসব রোবটের মাধ্যমে আমেরিকানদের ওপর নজরদারি চালানো, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। বিদেশি শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র বা হ্যাকাররা দূর থেকে সাইবার হামলার মাধ্যমে এসব রোবটের নিয়ন্ত্রণ হাতিয়ে নিতে পারে এমর আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে এই নিষেধাজ্ঞা শুধু ভবিষ্যতে বাজারে আসতে যাওয়া নতুন মডেলের রোবটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। পূর্বে অনুমোদিত বা ইতিমধ্যে কেনা রোবটগুলো বিক্রিতে কোনো বাধা নেই।

এদিকে রোবটের পাশাপাশি ডেটা সেন্টার ও সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলে ব্যবহৃত চীনা পাওয়ার ইনভার্টার আমদানিতেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যাতে দূর থেকে মার্কিন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অচল করা না যায়।

এফসিসি বলেছে, বিদেশে তৈরি বিদ্যুৎ রূপান্তরকারী যন্ত্র ব্যবহারের ফলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো দূর থেকে সেগুলো বন্ধ করে দিতে পারে, তথ্য চুরি করতে পারে, দূরবর্তী প্রবেশাধিকার ও নজরদারির সুযোগ তৈরি করতে পারে, অথবা বিদেশি সরকারি পক্ষের মাধ্যমে কিংবা সাইবার হামলার সাহায্যে সেগুলোকে অন্যভাবে অপব্যবহার করতে পারে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে চীনের শীর্ষ রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান- ইউনিট্রি, ইউবিটেক, এবং এজিআইবট সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কোম্পানিগুলো সাশ্রয়ী মূল্যের হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির জন্য বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের কাছে এসব রোবটের বিশাল চাহিদা ছিল, যা এখন বন্ধ হয়ে যাবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে কাজে লাগিয়ে ইলন মাস্কের ‘টেসলা’ ও ‘ফিগার এআইয়ে’র মতো মার্কিন কোম্পানিগুলো বৈশ্বিক বাজারে চীনের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাবে।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এবং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মার্কিন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস অভিযোগ করেছে, মার্কিন সরকার বাণিজ্য ও প্রযুক্তিকে রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছে এবং ‘ভিত্তিহীন অজুহাতে’ নিষেধাজ্ঞা চাপাচ্ছে। এই ধরনের সুরক্ষাবাদী নীতি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থনীতি এবং ভোক্তাদের ক্ষতি করবে।

এছাড়াও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নিজেদের বৈধ স্বার্থ ও দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষায় বেইজিং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

আজকের সর্বশেষ সংবাদ