
দেশচিন্তা ডেস্ক: ভিএআরে বাতিল হওয়া এক গোল, গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দের একের পর এক দুর্দান্ত সেভ এবং বেলজিয়ামের লাল কার্ড; সব মিলিয়ে নাটকীয় এক ম্যাচে শক্তিশালী বেলজিয়ামের সঙ্গে ০-০ ড্র করেছে ইরান। এই ফলাফলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার আশা জিইয়ে রাখলো এশিয়ার প্রতিনিধিরা।
লস অ্যাঞ্জেলসে সোমবার (২২ জুন) বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস এক লড়াই দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের নিয়ন্ত্রণ নেয় বেলজিয়াম। কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকু, লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ড ও ম্যাক্সিম ডি কুইপারের নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। নবম মিনিটে ডি ব্রুইনার শট এবং পরে লুকাকু-ত্রোসার্ডদের কয়েকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ ও রক্ষণভাগ।
তবে বেলজিয়ামের চাপের মধ্যেও পাল্টা আক্রমণে ভয় ধরায় ইরান। ১৪ মিনিটে হোসেইন কানানির শট দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। ২৫ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তের জন্ম দেয় ইরান। এহসান হাজসাফির বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিক থেকে বল পেয়ে মেহদি তারেমি নিখুঁত ফিনিশে জালে পাঠান। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় সামান্য অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও ইরানের সুসংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি বেলজিয়াম। ৪৪ মিনিটে ডি কুইপারের জোরালো শট বুক দিয়ে ঠেকান বেইরানভান্দ। যোগ করা সময়েও ডি ব্রুইনার ক্রস থেকে লুকাকু সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পরও আক্রমণ অব্যাহত রাখে বেলজিয়াম। ৫০ মিনিটে ডি ব্রুইনার নিখুঁত পাস থেকে সেলেমেকার্সের ভলি সাইডনেটে লাগে। ৫৩ মিনিটে মেহদি তারেমির ঘুরে নেয়া শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে ইরানকে গোলের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করেন কোর্তোয়া।
৫৯ মিনিটে ম্যাচের অন্যতম সেরা আক্রমণ গড়ে বেলজিয়াম। ডি ব্রুইনার নিচু ক্রস থেকে প্রথমে নেমাতি ব্লক করেন, পরে কাছ থেকে ডি কুইপারের শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বেইরানভান্দ। ৬৫ মিনিটে দোদি লুকেবাকিওর বাঁকানো শটও রুখে দেন ইরানি গোলরক্ষক।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৬৮ মিনিটে। গোলরক্ষকের উদ্দেশে দেয়া দুর্বল ব্যাকপাস ধরে এককভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তারেমি। তাকে কাঁধ ধরে ফেলে দেওয়ায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বেলজিয়ামের নাথান এনগয়। ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইউরোপীয়রা।
সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগাতে আক্রমণাত্মক পরিবর্তন আনে ইরান। ৮১ মিনিটে সাঈদ এজাতোলাহির দূরপাল্লার শক্তিশালী শট কোর্তোয়া পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলেও ফিরতি বলে কেউ পৌঁছাতে পারেননি।
তবে একজন কম নিয়েও ম্যাচের শেষভাগে বিপজ্জনক ছিল বেলজিয়াম। ৮৬ মিনিটে কাস্তানের নিচু ক্রস থেকে ডি কুইপারের জোরালো শট আবারও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বেইরানভান্দ। যোগ করা সময়েও ফার্নান্দেজ-পার্দো ও লুকেবাকিওর প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে আর গোলের দেখা মেলেনি।
শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল। বেলজিয়াম আক্রমণে আধিপত্য দেখালেও ইরানের শৃঙ্খলিত রক্ষণ এবং বেইরানভান্দের বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স তাদের মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেয়। এই ড্রয়ে নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্নও বাঁচিয়ে রাখলো তারেমিরা।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ড্র করেছিল ইরান। শেষ ম্যাচে মিশরকে হারাতে পারলে নিশ্চিত পরের রাউন্ডে যাবে তারা। এমনকি ড্র করলেও থাকছে সম্ভাবনা। এর আগে বিশ্বকাপের ছয় আসরে অংশ নিলেও গ্রুপপর্বের বাধা কখনো পেরোতে পারেনি দলটি।
এদিকে অন্য এক পরিসংখ্যানে ইতোমধ্যে নতুন নজির গড়েছে ইরান। নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে অপরাজিত থাকার কীর্তি গড়েছে তারা।

















