
দেশচিন্তা ডেস্ক: কলম্বিয়ার বিশ্বকাপ বিদায় নিশ্চিত করল সুইজাল্যান্ড। শেষ ষোলোর শেষ ম্যাচটি টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হয়েছে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলায় কোনো দলই গোল পায়নি। টাইব্রেকারে কলম্বিয়া দুটি শটে গোল মিস করে। একটি শটে গোল না পেলেও সুইজারল্যান্ড বিজয়ের হাসি হেসেছে। ৪-৩ ব্যবধানে দক্ষিণ আমেরিকান দেশকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে তারা।
২০১৪ সাল থেকে টানা তিনটি বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে উঠেও বিদায় নিয়েছিল সুইজারল্যান্ড। এবার তারা সেই গেরো কাটাল। ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে সুইসরা। ৭২ বছর পর শেষ আটে উঠে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে আর্জেন্টিনাকে।
দুই দলই টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করে। অবশেষে সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল দুর্দান্তভাবে কুচো হার্নান্দেজের শটটি আটকে দেন। রুবেন ভার্গাস জয়সূচক পেনাল্টি গোল করেন।
বিশ্বকাপে এটাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে শেষ ম্যাচ। হাজার হাজার আবেগপ্রবণ সমর্থকের সমর্থনে ভ্যাঙ্কুভারে মাঠে নামে কলম্বিয়া। এই ম্যাচের আগে তারা তাদের গত চার ম্যাচে মাত্র একটি গোল খেয়েছিল। সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগ ভাঙাও বেশ কঠিন হয়েছে এবার।
ম্যাচের ২১তম মিনিটে প্রথম আক্রমণ হয়। পেনাল্টি বক্সের প্রান্ত থেকে গুস্তাভো পুয়ের্তার একটি বাঁকানো শট কোবেল উড়ন্ত সেভ করে আটকে দেন। প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের পরপরই সুইসরা তাদের খেলার গতি বাড়ায়। কামিলো ভার্গাস প্রথমে ফ্যাবিয়ান রিডারের একটি শট রুখে দেন। পরে ড্যান এনডোয়েকেও গোলবঞ্চিত করেন। তবে প্রথমার্ধ শেষে কোনো দলই গোল করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সুইজারল্যান্ড আক্রমণাত্মক খেলে। কলম্বিয়াও কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল। লুইস সুয়ারেজের একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দ্বিতীয়ার্ধে দুই কোচই একাধিক খেলোয়াড় পরিবর্তন করলেও পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।
কলম্বিয়ার তারকা উইঙ্গার লুইস দিয়াজকে পুরোটা সময় বোতলবন্দি রাখা হয়েছিল। অতিরিক্ত সময়ের ঠিক আগে এনডোয়ের একটি শট গোলপোস্টের পাশ দিয়ে চলে যায়। ফলে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ০-০ গোলে টাই থাকে।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে খেলা কিছুটা জমে ওঠে। নবম মিনিটে কর্নার থেকে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার জন লুকুমির একটি হেড বারে লেগে ফিরে আসে। জামিন্টন ক্যাম্পাজের একটি জোরালো শট কোবেল চমৎকারভাবে আটকে দেন। অন্যদিকে কলম্বিয়ার গোলরক্ষক ভার্গাস বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সুইস বদলি খেলোয়াড় জেকি আমদুনির একটি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেন। খেলার শেষ পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে ম্যাচ জেতার একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন ক্যাম্পাজ।
অবশেষে অতিরিক্ত সময়েও কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায়। যেখানে কুচো হার্নান্দেজ গোলবঞ্চিত হওয়ার আগে ডেভিনসন সানচেজ কলম্বিয়ার হয়ে গোল মিস করেন। সুইজারল্যান্ডের আকাঞ্জিও গোলবারের ওপর দিয়ে মেরেছিলেন। তবে দুই মিসের খেসারত দিতে হয়েছে কলম্বিয়াকে।
পরবর্তী পর্বে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড। লিওনেল মেসির দল আটলান্টায় মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। এর আগে ১৯৫৪ সালে নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় শেষবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল সুইজারল্যান্ড।
















