আজ : বুধবার ║ ৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : বুধবার ║ ৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ২৩শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মিসরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

দেশচিন্তা ডেস্ক: শেষ ষোলোয় নাটকীয় এক লড়াই দেখল ফুটবল বিশ্ব। মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচে নির্ধারিত নব্বই মিনিটে হল ৫ গোল। মোহামেদ সালাহর দল ম্যাচের শুরুতেই এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ৫৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে। তবে দুই গোলে পিছিয়ে পড়লেও দমে যায়নি লিওনেল স্কালোনির দল। টুর্নামেন্টে কেনো তারা ফেভারিট তাই প্রমাণ করলেন আলবিসেলেস্তেরা। চার মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল শোধ করে ম্যাচে সমতা ফেরান লিওনেল মেসিরা। এরপর ম্যাচ যহন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর শঙ্কায় তখনই মোড় ঘুরিয়ে দেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ। ৯০ মিনিটের খেলা শেষে ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন চেলসির এই মিডফিল্ডার। তাঁর এই গোলেই শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা, মিসরকে বিদায় করে জায়গা করে নিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার চেয়ে গোছানো ফুটবল খেলেছে মোহামেদ সালাহর মিসর। প্রথম দশ মিনিটেই গোলের সুযোগও তৈরি করেছিল দলটি। ওদিকে টুর্নামেন্টের ফেভারিট হলেও প্রথম থেকেই আর্জেন্টিনা চ্ছিল কিছুটা অগোছালো। সেই সুযোগেই প্রথম গোলের দেখা পায় মিসর। ম্যাচের ১৪ মিনিটেই এগিয়ে যায় দলটি।

শর্ট কর্নার থেকে দারুণ এক আক্রমণ সাজায় মিসর। বল পেয়ে চমৎকারভাবে বক্সে ক্রস বাড়ান মারওয়ান আত্তিয়া। আর সেখানে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে বাতাসে পরাস্ত করে নিখুঁত টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে বুলেট গতির এক হেডে বল জালে পাঠিয়ে দেন ইয়াসের ইব্রাহিম।

এদিকে গোল হজমের পর ম্যাচের ১৯ মিনিটেই পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। মিসরের হাইসেম হাসান বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে। রেফারি ফ্রঁসোয়া ল্যতেক্সিয়ে বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দিতে একদমই দেরি করেননি।

স্পট কিক থেকে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ ছিল আর্জেন্টিনার সামনে। শট নিতে এসেছিলেন খোদ অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কিন্তু ডান দিকের নিচু কোণ ঘেঁষে নেওয়া মেসির শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মিসরীয় গোলকিপার মোস্তফা শোবের!

এদিকে গোল হজম এবং পেনাল্টি মিসের পর সমতায় ফিরতে খোলস ছেড়ে বের হয় আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে গোলের লক্ষ্যে লড়তে থাকে দলটি। আর মিসরের হয়ে গোলপোস্টের সামনে প্রাচীর হয়ে ছিলেন দলটির গোলরক্ষক। ২৮ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন তিনি। মিসরীয় ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বক্সে আসা একটি চমৎকার ক্রসে মাথা ছুঁইয়েছিলেন আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। তাঁর নেওয়া হেডটি পোস্টের মাঝ বরাবর জালের দিকেই যাচ্ছিল। দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে দারুণ এক সেভ করে এবারও আর্জেন্টিনাকে হতাশ ক শোবের।

এরপর ৩১ মিনিটে দারুণ এক সুযোগও পেয়েছিলেন মেসি। বক্সের বেশ কিছুটা দূর থেকে বাঁ পায়ের এক দুর্দান্ত বুলেট গতির শট নিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মিসরীয় গোলকিপারকে পরাস্ত করলেও তাঁর সেই বজ্রবিদ্যুৎ গতির শটটি এবার সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

এরপর ৩৯ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে ফের হতাশ করেন শোবের। মিসরের বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ। নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে গোলপোস্টের মাঝ বরাবর নিচু শটও নিয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। কিন্তু আজ অতিমানবীয় ফর্মে থাকা মিসরীয় গোলরক্ষক এই শটও রুখে দেন।

পিছিয়ে পড়ার পর একের পর এক আক্রমণ করলেও কখনো বল পোস্টে লেগে আব্র মিসরীয় গোলরক্ষকের দুর্দান্ত প্রচেষ্টায় আর সমতায় ফেরা হয়নি আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধ শেষে তাই ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

এদিকে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পর ম্যাচের ৫৭ মিনিটেই আরেকটি গোল হজম করে বসে আর্জেন্টিনা। তবে তা বাতিল হয় ভিএআরে। মিসরের গোলের ঠিক আগে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজর এর পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন মারওয়ান আত্তিয়া। ভিএআরের দ্রুত হস্তক্ষেপের পর ঘটনাটি ফাউল হিসেবে ধরা হয় এবং শেষ পর্যন্ত মিসরের গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি।

এদিকে এক গোল বাতিল হলেও ব্যবধান দ্বিগুণ করতে খুব বেশি সময় নেননি সালাহরা। মিসরের বাতিল হওয়া গোলটি করেছিলেন মোস্তাফা জিকো। তবে ৬৭ মিনিটে ফের গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জিকোই। সালাহর তৈরি করা আক্রমণে বল পান হাসিম হাসান। হাসিম বলটি কাট করে দেন বাঁ পাশে থাকা জিকোকে। দারুণ এক শটে এমি মার্তিনেজকে পরাস্ত করে গোল করেন জিকো।

তবে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরতে মরিয়া লড়াই করে আর্জেন্টিনা। এরই সুবাদে ম্যাচের ৭৯ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় আলবিসেলেস্তেরা। মেসির দারুণ এক ক্রস থেকে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক হেডারে দলকে প্রথম গোল এনে দেন রোমেরো।

রোমেরোর গোলের পর দলকে সমতায় ফেরাতে খুব বেশি সময় নেননি মেসি। ৮৩ মিনিটে বক্সের ভেতরে বল পান আর্জেন্টাইন জাদুকর। দুর্দান্ত এক শট নেন তিনি। যা মিসরীয় গোলরক্ষক শোবেরের হাতে লাগলেও ঠিকই গোললাইন অতিক্রম করে।

এদিকে আর্জেন্টিনা দুই গোল শোধ করে ম্যাচে সমতা ফেরানোর পর খেলা যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায় তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন এঞ্জো। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে আলভারেজের লং বলে ডানপাশের উইংয়ে বল পান লাউতারো মার্তিনেজ। কিছুটা সময় নিয়ে দারুণ এক ক্রসে মার্তিনেজ বল পাঠিয়ে দেন আঞ্জোর কাছে। আর দুর্দান্ত এক হেডারে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন চেলসির এই মিডফিল্ডার। তাঁর এই গোলেই ম্যাচ শেষ হয় ৩-২ ব্যবধানে। আর্জেন্টিনা দারুণ এক জয়ে নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

আজকের সর্বশেষ সংবাদ