আজ : শুক্রবার ║ ২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : শুক্রবার ║ ২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ১২ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

চামড়ার চেয়ে লবণের দাম বেশি: আতুরার ডিপো ও বিবির হাটে চামড়ার স্তূপ, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ

অভিলাষ মাহমুদ, চট্টগ্রাম:
ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন এলাকাগুলোতে মেলেনি চামড়ার জটলা থেকে মুক্তি। মৌসুমী ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের ফেলে যাওয়া পচনশীল কাঁচা চামড়ার স্তূপে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরবাসী। চট্টগ্রামের অক্সিজেন থেকে মুরাদপুর সড়কের আতুরার ডিপো (ফিশারি এলাকা) এবং বিবির হাট এলাকায় সড়কের পাশে পড়ে থাকা চামড়া থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে, যার ফলে ওই অঞ্চলের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল দায় হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের সংকটের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ চামড়া সংরক্ষণের মূল উপাদান লবণের অতিরিক্ত মূল্য। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, “চামড়ার যে বাজারমূল্য, তার চেয়ে চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় লবণের দাম অনেক বেশি।” ফলে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে এবং বাড়তি খরচের ভয়ে অনেকেই সংগৃহীত চামড়া রাস্তায় ফেলে রেখে চলে গেছেন।
সড়কের পাশে চামড়ার পাহাড়, অতিষ্ঠ জনজীবন
সরেজমিনে দেখা গেছে, অক্সিজেন-মুরাদপুর মহাসড়কের দুই পাশে, বিশেষ করে আতুরার ডিপো ও সংলগ্ন ফিশারি এলাকায় হাজার হাজার পিস কাঁচা চামড়া যত্রতত্র পড়ে আছে। তীব্র গরমে ও রোদে চামড়াগুলো দ্রুত পচে গিয়ে চারদিকে বিকট গন্ধ ছড়াচ্ছে।
বিবির হাট এলাকার একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঈদের আজ দ্বিতীয় দিন পার হচ্ছে, কিন্তু এখনো চামড়াগুলো অপসারণ করা হয়নি। এই রাস্তা দিয়ে নাক চেপেও হাঁটা যাচ্ছে না। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এখানে রোগজীবাণু ছড়াবে।”
লবণের বাজারে সিন্ডিকেট ও লোকসানের ক্ষোভ
মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, আড়তগুলোতে কাঁচা চামড়া নিয়ে গেলে পানির দরে দাম হাঁকা হচ্ছে। অন্যদিকে, এক বস্তা লবণের দাম চামড়ার বিক্রয়মূল্যকে ছাড়িয়ে গেছে। লবণ কিনে চামড়া টিকিয়ে রাখার চেয়ে তা ফেলে দেওয়াই অনেকে ‘সহজ’ মনে করছেন। এই সমন্বয়হীনতার কারণেই প্রতি বছর কুরবানির ঈদের পর চট্টগ্রামে এমন পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দেয়।
সিটি কর্পোরেশনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন
কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে চসিকের পক্ষ থেকে বড় ধরনের প্রস্তুতি ও শতভাগ সফলতার দাবি করা হলেও, কাঁচা চামড়ার এই আড়ত ও ডাম্পিং জোনগুলোর বর্জ্য সরাতে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।
পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই এলাকাগুলোতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালিয়ে চামড়ার স্তূপ অপসারণ এবং ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক ছিটানোর জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বর্ষা ও গরমের এই মৌসুমে সংলগ্ন এলাকায় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ