আজ : বুধবার ║ ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : বুধবার ║ ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

গুপ্ত লেখাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সিটি কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ

দেশচিন্তা ডেস্ক: মুহাম্মদ ইমরান সোহেল: চট্টগ্রাম সিটি কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের দেয়ালে থাকা একটি গ্রাফিতিতে লেখা পরিবর্তনক করে গুপ্ত লেখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর মধ্যে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরীক্ষাগুলো যথারীতি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকেই উত্তেজনা শুরু হয়ে দুপুর ১২টার দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ক্যাম্পাসের একটি ভবনের দেয়ালে থাকা একটি গ্রাফিতিতে লেখা পরিবর্তন করে গুপ্ত লেখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কলেজের পরিস্থিতি বাক-বিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও স্লোগান চলতে থাকে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কলেজের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিক্ষার্থীদের বোঝানো হয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বিঘ্নিত হলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে। পরে শিক্ষার্থীরা সরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে দুপুরের পর থেকে অভ্যন্তরীণ সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কলেজ ভবনের দেয়ালে থাকা একটি গ্রাফিতির নিচে লেখা ছিল—‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। সোমবার রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী সেখানে গিয়ে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দেন এবং তার পরিবর্তে ‘গুপ্ত’ লিখে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথম দফা সংঘর্ষ হয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায় এবং কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের অনেকটা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তবে সংঘর্ষে হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলেজ কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে সকল ক্লাস ও নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে।

শিবিরের সভাপতি মাইমুন ইসলাম জানান, কলেজের ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি কে বাধা প্রদান করায় দুপুরে একজন শিবির কর্মীর পায়ের গুড়ালী কেটে। তিনি আরও জানান আমাদের মোট ১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন। কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেছিল। প্রথমে শিক্ষকরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ এসে নিয়ন্ত্রণে আনে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানা যাবে।
হামলায় শিবিরের আহতরা হলো- সিটি কালেজের রাফাত বিন হাসান, মাসুদুল ইসলাম সিয়াম, দেলোয়ার হোসেন, রাকিবুল ইসলাম, সিটি কলেজ ছাত্রশিবির সভাপতি হামেদ হাসান মিসকাত, কলেজ শিবির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ বিন সাব্বির, আরিফুল ইসলাম বাপ্পি, পায়ের গোড়ালি কেটে ফেলা আশারফুল ইসলাম, ওমর ফারুক, ফয়সাল বিন ফারুক, মোহাম্মদ ফাহিম, রবিউল হোছাইন। আরো কয়েকজনের না সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ