
দেশচিন্তা ডেস্ক: মুহাম্মদ ইমরান সোহেল: চট্টগ্রামে সরকারি সিটি কলেজে সংঘর্ষের রেশ না কাটাতেই রাতে নগরীর খুলশী থানাধীন সেগুনবাগান এলাকায় জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত একটি লাইব্রেরিতে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৯টার দিকে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াত নেতারা। এতে জামায়াতের অন্তত ৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন এবং পাঠাগারের আসবাবপত্রসহ বিপুল সংখ্যক বইপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাতেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সেগুনবাগানের ওই লাইব্রেরিতে জামায়াতের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের হোটেল শ্রমিক ইউনিটের একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি চলছিল।
এতে সেগুনবাগান এলাকার বেশ কয়েকজন হোটেল শ্রমিক অংশ নেন। শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতারা সংবাদমাধ্যমে জানান, রাত ৯টায় বৈঠক চলাকালে ওই এলাকা দিয়ে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের একটি মিছিল যাচ্ছিল। মিছিলটি লাইব্রেরির সামনে পৌঁছামাত্র একদল লোক অতর্কিতভাবে ভেতরে ঢুকে হামলা চালায়। এ সময় তারা অর্ধশতাধিক চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে এবং বইপত্র ছিঁড়ে তছনছ করে।
সংগঠনটির অভিযোগ, হামলাকারীরা লাইব্রেরির ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভেঙে ফেলা হয়। শেলফে রাখা বিপুল সংখ্যক বই ও নথিপত্র ছিঁড়ে এবং তছনছ করে নষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজনের কাছ থেকে মোবাইল, মানিব্যাগসহ টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
হামলায় আহত ৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এস. এম. লুৎফুর রহমান সাংবাদিককে জানান, কোনো উস্কানি ছাড়াই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই হামলা চালানো হয়েছে। শ্রমিকদের একটি শান্তিপূর্ণ সাংগঠনিক সভায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।










