আজ : শুক্রবার ║ ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : শুক্রবার ║ ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ১লা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

নাসিকা রোগের কারণ ও নাক ডাকা সমস্যার সমাধান

অধ্যাপক ডা. চিত্ত রঞ্জন শর্মা

মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন জটিল সমস্যার কারণে নাসিকা রোগের সৃষ্টি হতে পারে। নাসিকার শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির রক্তাধিক হেতু শ্লেষ্মা নির্গত হয়। নাক চুলকায়, নাসিকা হতে প্রচুর পরিমাণে শ্লেষ্মা ঝরে তাহার সহিত বার বার হাঁচি হয়, নাক চুলকায়, রাত্রে নাক সাটিয়া ধরে, শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট হয়। নাকের ডগা লাল বর্ণ হয়, সকালে নাক হতে রক্ত পড়ে। জলের পিপাসা হয় ও কোষ্ঠবদ্ধতা থাকে। হরিদ্রা বর্ণের চটচটে দুর্গন্ধ শ্লেষ্মা স্রাব, নাসিকা হতে ঘ্রাণশক্তি হ্রাস হয়। এই পীড়া হতে ধীরে ধীরে অস্থি নাসিকার উপরে অস্থিতে পর্যন্ত ধ্বংস করে ফেলে এবং উহাতে স্মরণ শক্তি কমে যায়। পারদের অপব্যবহার উপদংশের ক্ষত হয়। পুরাতন সর্দি, বংশগত পারদের কারণে এই রোগের সৃষ্টি হতে পারে। নাসিকা হতে রক্তস্রাব হলে, কোন কোন সময়ে নাসাপথে রক্তস্রাব না হলেও আমাশয় রোগ হয়ে রক্তস্রাব হয়। নাকে আঘাত লাগা হেতু, অতিরিক্ত পরিশ্রম হেতু ও কাশির কারণে এই রোগ হতে পারে। নাকের মধ্যে রসুনের কোয়ার মতো ফুলে উঠার নাম হচ্ছে নাসা। ইহা এক নাকে বা দুই নাকে হতে পারে। ইহা হবার পূর্বে সর্দি লাগে, যার মধ্যে বেদনা হয় এবং সর্ব শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। চক্ষু ও মুখ লাল বর্ণ ধারণ করে, রোগীর নাক ডাকা শুরু হয়ে যায়। ঘুমের সময় নাক ডাকা অনেকের কাছেই সাধারণ সমস্যা মনে হতে পারে, তবে এটি শুধু বিরক্তিকরই নয়, একই কক্ষে শয়ন করা ব্যক্তিদেরও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। শ্বাসনালি আংশিকভাবে সংকুচিত হয়ে বাতাস চলাচলের সময় গলার নরম টিস্যুতে কম্পন সৃষ্টি হয়, আর সেখান থেকেই নাক শব্দের সৃষ্টি। জীবনধারণের কিছু সহজ পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রায় অনেক ক্ষেত্রেই এ সমস্যার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা কমানোর চেষ্টা করা প্রয়োজন। কারণ গলা ও ঘাড়ে জমে থাকা চর্বি শ্বাসনালি সংকুচিত করতে পারে। পাশাপাশি চিত হয়ে না শুয়ে পাশ ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস করলে শ্বাসপ্রশ্বাস চলাচলে সুবিধা হয় এবং নাক ডাকা প্রবণতা কমে। প্রত্যেক মানুষ ঘুমানোর পূর্বে নাক পরিষ্কার করা, শরীরের তুলনায় বালিশ কিছুটা উঁচুতে রাখা এবং আরামদায়ক তুলার বালিশ ব্যবহার করা প্রয়োজন। নাক বন্ধ থাকলে ন্যাজাল স্ট্রিপ ব্যবহার করলে অনেকেই স্বস্তি পান। তাছাড়া রাত্রে অতিরিক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত নিদ্রার অভ্যাস করা উচিত। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ভেষজ তেল ব্যবহারেও সাময়িক উপকার হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে নাকডাকা ও শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঘুমের সমস্যা থাকলে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। যত বিলম্ব করা হবে রোগের সমস্যা বেড়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত নাক, কান ও গলার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হতে পারে। নাক বন্ধ থাকলে যে কোন পদ্ধতির চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে উপকৃত হবেন।

লেখক- চিকিৎসক ও প্রাবন্ধিক।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন