
দেশচিন্তা ডেস্ক: প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে ‘ইপসা-শিখা’ প্রকল্পের আওতায় এবং প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির কমপ্লেইন্ট কমিটির সহযোগিতায় ১৮ জুলাই ২০২৬, শনিবার, বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধে চতুর্থ সচেতনতামূলক সেশন অনুষ্ঠিত হয়|
ব্র্যাক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘ইপসা-শিখা’ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, গণপরিবহন, কমিউনিটি এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, যৌন হয়রানি ও বুলিং প্রতিরোধে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা|
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি এবং ইপসার মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এর আওতায় ইপসা বিশ্ববিদ্যালয়টিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে| এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক উদ্যোগ| এমওইউ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে একটি ইনসেপশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ইপসা জানায় যে তারা কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপ্লেইন্ট কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করবে| প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য ধারাবাহিকভাবে সচেতনতা সেশনের আয়োজন করা হচ্ছে|
এই ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৮ জুলাই ২০২৬, জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য চতুর্থ সচেতনতা সেশনটি অনুষ্ঠিত হয়| সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ, সমাজতত্ত্ব ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগ এবং পাবলিক হেলথ বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন| অনুষ্ঠানে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির কমপ্লেইন্ট কমিটির সদস্য ও সহযোগী অধ্যাপক গাজী শাহাদাৎ হোসেন উপস্থিত ছিলেন|
সেশনটি পরিচালনা করেন ‘ইপসা-শিখা’ প্রকল্পের ম্যানেজার তুষার কুমার রায়| তিনি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম ও লক্ষ্য তুলে ধরেন| তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে প্রকল্পটি লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ এবং জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ইতিবাচক ও গুণগত পরিবর্তন আনতে কাজ করছে|
তুষার কুমার রায় বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, সচেতনতামূলক কার্যক্রমের বিস্তার এবং কার্যকর কাউন্সেলিং ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সচেতনতা সেশন অংশগ্রহণকারীদের আচরণগত দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন, সমস্যার যথাযথ প্রতিক্রিয়া এবং রিপোর্টিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করে| একই সঙ্গে তিনি জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধে ছাত্র-ছাত্রীদের করণীয় ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন|
সেশনে আরও বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক প্রতিনিধি জনাব রাশেদুল ইসলাম, এসোসিয়েট ফিল্ড অফিসার মিশকাত হোসাইন এবং ট্রেনিং ও ক্যাম্পেইন অফিসার মোঃ রাশেদ| তাঁরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন|
কমপ্লেইন্ট কমিটির সদস্য ও সহযোগী অধ্যাপক গাজী শাহাদাৎ হোসেন তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সহযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে|
সেশনের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ে তাদের মূল্যবান চিন্তা ও মতামত প্রকাশ করেন| এছাড়াও তাদের এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বক্তারা|











