
দেশচিন্তা ডেস্ক: মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, সেদিন অনেক কষ্টে আমার বিধবা মায়ের বুক থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম। মায়ের কান্নাভরা চোখ মুছে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে চলে গিয়েছিলাম। মা ছাড়তে চাননি, কিন্তু বলেছিলাম— মা, আমরা কেউ যদি না যাই, তবে দেশটাকে কে স্বাধীন করবে?
সোমবার (৬ জুন) সকালে রাজধানীর এক হোটেলে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমসি) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ স্মৃতিচারণ করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ৯ মাস মায়ের সাথে দেখা হয়নি এবং কোনো যোগাযোগ ছিল না, বেঁচে ফেরার আশাও ছিল না। মাও জানে না আমি কোথায়? কোনো বিনিময় ছাড়া শুধু দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই সেদিন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান এই দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তিনি নিজে সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের প্রধান হিসেবে যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। পরে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন— মেজর জিয়া। তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়াও কোনো স্বৈরাচারের সাথে আপোষ না করে এ দেশে গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, দেশের প্রশাসনিক প্রধান বা প্রধানমন্ত্রী পদের দূরদর্শী চিন্তা কেমন হওয়া উচিত, তার একটি অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার কিছু ব্যক্তিগত অভ্যাস, সময়ানুবর্তিতা এবং দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ আজ পুরো জাতির জন্য এক অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রী যদি সিগন্যাল না মেনে চলে যেতেন, কেউ হয়তো সমালোচনা করবে না। কিন্তু তিনি সিগন্যালে থামেন আমাদের শেখানোর জন্য। বিগত সরকারের আমলে মন্ত্রী-এমপিদের উল্টো পথে যাওয়ার যে সংস্কৃতি ছিল, তা ভেঙে প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করেছেন যে, দেশের আইন সবার জন্য সমান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশাল কার্যালয় থাকা সত্ত্বেও তিনি সচিবালয়ের ছোট একটি রুমে বসে দাফতরিক কাজ পরিচালনা করেন। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো—সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীরা যাতে সঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন এবং কাজের গতি বৃদ্ধি পায়। প্রধানমন্ত্রীর এই সময়ানুবর্তিতা ও সুশাসনের ভয়ে এবং শ্রদ্ধায় এখন পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসছে।














