আজ : শনিবার ║ ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : শনিবার ║ ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ২৭শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৫, বাস্তুচ্যুত হাজারো পরিবার

দেশচিন্তা ডেস্ক: দক্ষিণ ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে অন্তত ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৩৪ জন।

অপরদিকে এ ভূমিকম্পে প্রায় ১০ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে (রবিবার ২৩:৩৭ জিএমটি) ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর পরপরই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর এসব সতর্কবার্তা প্রত্যাহার করা হয়।

ভূমিকম্পের পর প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে বিভিন্ন ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। একটি জোলিবি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁ সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার ঘটনাও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে।

ফিলিপাইনের সিভিল ডিফেন্স অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৩১ জন সোকসারগেন অঞ্চলের এবং চারজন দাভাও অঞ্চলের বাসিন্দা।

এর আগে কর্তৃপক্ষ ৩২ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল এবং ১২ জন নিখোঁজ থাকার কথা বলেছিল।

মিন্দানাও ফিলিপাইনের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ, যেখানে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষের বসবাস। তবে হতাহতদের প্রকৃত সংখ্যা এখনও জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা যাচাই করছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, জাতীয় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং আমরা মিন্দানাওকে একা ফেলে রাখব না।

ভূমিকম্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্কুলের ক্লাসও স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মার্কোস। উল্লেখ্য, ভূমিকম্পের দিনই দেশটিতে নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন ছিল।

দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের কাঁপতে থাকা মাটিতে বসে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাদের পেছনে একটি টিনশেড আশ্রয়কেন্দ্র ধসে পড়ার দৃশ্যও ধরা পড়ে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে কেউ আহত হয়নি।

মূল ভূমিকম্পের পর ১.৩ থেকে ৬.৭ মাত্রার ১৩০টিরও বেশি আফটারশক বা পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া সোমবার রাত ১০টা ৫২ মিনিটে সারাঙ্গানির বালুট দ্বীপের উপকূলীয় জলসীমায় ৫.৭ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। অধিকাংশ ভূমিকম্প তুলনামূলক কম শক্তিশালী হলেও অতীতে কয়েকটি বড় ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মধ্য ফিলিপাইনের ভিসায়াস অঞ্চলে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যান।

ভূমিকম্পের পর জাপান কর্তৃপক্ষ তাদের উপকূলে এক মিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। পরে ওকিনাওয়া ও ওগাসাওয়ারা দ্বীপপুঞ্জে কয়েক সেন্টিমিটার থেকে ২০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়। একইভাবে ইন্দোনেশিয়া, পালাউ ও ফিলিপাইনের বিভিন্ন উপকূলেও কয়েক সেন্টিমিটার থেকে ১.৪ মিটার উচ্চতার ঢেউ লক্ষ্য করা গেছে।
সূত্র : বিবিসি

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

পূর্বের নিউজ দেখুন

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

আজকের সর্বশেষ সংবাদ