
দেশচিন্তা ডেস্ক: আগামী ১৩ জুন ২০২৬, শনিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য চট্টগ্রামের উদ্যোগে ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে এক বিশেষ দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় দেওয়ানবাজারস্থ বাংলাদেশ ইসলামিক একাডেমি (বিআইএ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশের সার্বিক প্রস্তুতি, করণীয় ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে মহানগর, থানা, ওয়ার্ড, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্বশীলরা অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন ও এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস. এম. লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তরের সভাপতি মুমিনুল হক এবং দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. এ কে এম ফজলুল হক, নগর কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান এলাহী, অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, কোতোয়ালী থানা আমীর আমির হোসাইন, বন্দর থানা আমীর মাহমুদুল আলম, হালিশহর থানা আমীর ফখরে জাহান সিরাজী সবুজ, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, ড. আ ম ম মসরুর হোসাইনসহ মহানগর, থানা, ওয়ার্ড, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্বশীলবৃন্দ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী ১৩ জুন ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করবেন। সমাবেশকে সর্বাত্মক সফল করতে মহানগরীর প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, জনগণ গণরায়ের বাস্তবায়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাশা করলেও সরকার সে পথে অগ্রসর হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশসমূহ ল্যাপস করে দিয়ে একদিকে গুম, খুন ও সন্ত্রাসের পরিবেশকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাংক, বীমা ও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাতের আঁধারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরে রাস্তা কেটে দেওয়া এবং যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার মতো ঘটনাগুলো রাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে পতিত ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
নজরুল ইসলাম বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণের মনে প্রশ্ন জাগছে, ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের দাসখত দিয়েই কি সরকার ক্ষমতায় এসেছে? তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে।
তিনি ১৩ জুনের বিভাগীয় সমাবেশকে গণমানুষের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক অভিব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে সমাবেশ সফল করতে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সচেতন নাগরিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।










