আজ : সোমবার ║ ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ : সোমবার ║ ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়তে সরকার–নাগরিক সমাজ একসঙ্গে কাজের আহ্বান

দেশচিন্তা ডেস্ক: অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা, বৈষম্যহীন দেশ গড়তে শক্তিশালী নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ এবং তরুণদের কার্যকর সম্পৃক্ততাকে টেকসই উন্নয়নের মূল শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন বক্তারা। রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে “নাগরিকতা” কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত নীতিসংলাপ ও নেটওয়ার্কিং সভায় এসব মত উঠে আসে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের সহায়তায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সরকারি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং তরুণ নেতারা অংশ নেন। লক্ষ্য ছিল উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় জোরদার করা।

উদ্বোধনী পর্বের প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ ও তরুণদের যৌথ অংশগ্রহণ ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ধর্ম, জাতি বা পরিচয় নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় নাগরিক সমাজের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানান তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তরুণদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তরুণরাই আজ পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি।”

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী আইন, মানবাধিকার রক্ষাকারীদের সুরক্ষা, লিঙ্গসমতা এবং তরুণদের অংশগ্রহণ—এই চারটি বিষয় এখন অগ্রাধিকার পাওয়া জরুরি। তিনি বলেন, ২০১৩ সাল থেকে আলোচনায় থাকলেও বৈষম্যবিরোধী আইন এখনো প্রণয়ন হয়নি, যা রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি নির্দেশ করে। মানবাধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা প্রধান মিকায়েল ক্রেজা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি “রূপান্তরকালীন মুহূর্তের” মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, নাগরিক সমাজকে আরও কার্যকরভাবে শাসন ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে একটি সিভিল সোসাইটি রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আইন কর্মকর্তা মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, বৈষম্যবিরোধী আইন দ্রুত প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, মানবাধিকারকর্মীরা রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ নন, বরং উন্নয়ন ও জবাবদিহির অংশীদার।

কানাডার প্রতিনিধি স্টিফেন উইভার বলেন, ভিন্ন মত থাকলেও অভিন্ন লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

তরুণদের পক্ষে ইয়ুথনেট গ্লোবাল’র নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, তরুণদের শুধু সুবিধাভোগী হিসেবে নয়, বরং নীতিনির্ধারণের অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

তিনি বলেন, “টোকেনিজম থেকে প্রকৃত অন্তর্ভুক্তি, সুবিধাভোগী থেকে অংশীদারত্ব, আর নিয়ন্ত্রণ থেকে সহায়ক নাগরিক পরিসর এই পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।”

দিনব্যাপী এ সংলাপে শতাধিক নাগরিক সমাজ সংগঠনের প্রতিনিধি অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা একে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ও অংশীদারত্বভিত্তিক উন্নয়নচিন্তাকে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানটি শেষ হয় বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের প্রতিফলনমূলক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহযোগিতামূলক পথনির্মাণের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও কার্যকর করার আহ্বান জানায়।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

আজকের সর্বশেষ সংবাদ